পাটের সুদিন ফিরে আসুক

পাটের সুদিন ফিরে আসুক

বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যকে কীভাবে লাভজনক করা যায়, সেই পথ খোঁজার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, পাট এমন একটি পণ্য যে তার কিছুই ফেলা যায় না। সেটার কেন লোকসান হবে। আমরা লোকসান শুনতে চাই না। এটাকে লাভজনক কীভাবে করা যায়, কীভাবে করতে হবে সেটা দেখতে হবে। জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে গত বুধবার এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের সাথে আমরা একমত। আমরা চাই সোনালি আঁশের সুদিন ফিরে আসুক। এক সময় বাংলাদেশকে বলা হতো সোনালি আঁশের দেশ। এক সময় পাটকলগুলো দেশের প্রধান শিল্প হিসেবে বিবেচিত হতো। পাট উৎপাদন করে কৃষক যে অর্থ পেত তা ব্যয় হতো দৈনন্দিন সব প্রয়োজনে। পাকিস্তান আমলেও এই পাটই ছিল রফতানি আয়ের প্রধান খাত। কালের বিবর্তনে পাট তার অবস্থান হারিয়েছে। কৃত্রিম তন্তুর কাছে মার খেয়ে পাটের এখন নাজুক দশা।

পাটজাত পণ্য রপ্তানি বাবদ আয় ক্রমান্বয়ে কমছে। সরকারি খাতের পাটকলগুলো লাগাতার লোকসানের শিকার হচ্ছে অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে। পাটচাষিদের সুদিন ফিরিয়ে আনতে পাটের বাজার অšে¦ষণে নজর দেওয়া দরকার। পাটের বিকল্প ব্যবহারের দিকেও নজর দিতে হবে। পাট উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আনার জন্য নিতে হবে পদক্ষেপ। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা পূরণের বাস্তবমুখী অ্যাকশন প্ল্যান নিয়ে এগোতে পারলে পাট আবার তার সুদিন ফিরে পাবে। পাটচাষিরা ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার হতাশা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। পাট চাষের সঙ্গে জড়িত লাখ লাখ কৃষক, এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিপুল শ্রমিকের স্বার্থে পাটের সুদিন ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নজর দিতে হবে। কৃত্রিম তন্তুর কাছে পাট যাতে মার না খায় সে উদ্যোগও নেওয়া দরকার। পরিবেশবান্ধব তন্তু পাটের ব্যবহার বাড়াতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচারণার ব্যবস্থা নিতে হবে।