পাটে ফিরছে সোনালি সুদিন

পাটে ফিরছে সোনালি সুদিন

প্লাস্টিক ও সিনথেটিক পণ্যের আগ্রাসী বিস্তারের গ্রাস পেরিয়ে আবার ফিরে আসছে পাটের সোনালি দিন। পাট পণ্যের জাগরণ শুরু হয়েছে নতুন করে। দেশিয় বাজার বিকাশ, পাট নিয়ে দেশিয় বিজ্ঞানিদের গবেষণায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন, গবেষণালব্ধ নতুন আবিষ্কার মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজার বিস্তৃতির কারণে বাংলাদেশের পাট এখন সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খোলার অপেক্ষায়। পাট এখন আর দড়ি, বস্তা, চটের ওপর নির্ভরশীল নয়। বহুমুখী উপযোগিতায় পাট পেয়েছে মর্যাদার আসন। ফলে পাটের বাজার মূল্য বাড়ছে, আশাবাদী কৃষক চাষের জমি বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলার পাট আবার নির্ভরতার স্থান নিচ্ছে। চলতি অর্থ বছরের প্রথম নয় মাসে আগের অর্থ বছরের একই সময়ের তুলনায় পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হাল নাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, গত নয় মাসে ৭৪ কোটি ১১ লাখ ডলারের পাট ও পাটজত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত অর্থ বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৬৪ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। এখন পাট চাষীদের প্রতি নজর দিতে হবে। কারণ, তারা এক বছর পাটের দাম পেলে পরের বছর ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হয়। পাটচাষীরা যাতে তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পান, এ ব্যাপারে সরকারকে বিশেষ নজর দিতে হবে। প্রয়োজনে আর্থিক প্রণোদনা যোগান দিতে হবে। কৃত্রিম তন্তুর কাছে পাট যাতে মার না খায় সে উদ্যোগও নেওয়া দরকার। মনে রাখা দরকার, সিনথেটিক কৃত্রিম আঁশ থেকে পশ্চিমা বিশ্বের মোহমুক্তি ঘটতে চলেছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। পাট চাষি, ব্যবসায়ী, শ্রমিক সবার হতাশা দূর করে পাট ও পাটজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, বিকল্প ব্যবহার এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের যথাযথ বাজারজাত করণের ব্যবস্থা নিশ্চিত কল্পে সরকারকে দ্রুত উদ্যোগী হতে হবে।