পাচারের শিকার বাংলাদেশিরা

পাচারের শিকার বাংলাদেশিরা

বাংলাদেশে এখনো বেকার তরুণ ও যুবকের সংখ্যা অনেক। আর এই সুযোগটিই কাজে লাগায় দেশি-বিদেশি মানব পাচারকারী চক্র। উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতি বছর শত শত তরুণ-যুবকের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। হাতিয়ে নেয় বিপুল পরিমাণ অর্থ। পাচারের শিকার ব্যক্তিরা বিদেশে গিয়ে দাসত্ব বরণ, যৌন নিপীড়ন সহ নানা রকম অমানবিক পেশায় নিয়োজিত হচ্ছে। অনেকের মৃত্যুও হচ্ছে। অভিবাসীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সীমান্ত ভূ-মধ্যসাগর। ভূ-মধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করতে গিয়ে ২০০০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৩৩,০০০ মানুষ মারা গেছে বলে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছুদিন আগে ভূ-মধ্যসাগরে নৌকা ডুবে বাংলাদেশিসহ অর্ধ শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এমন অবস্থায় অবৈধ পথে ইউরোপে ঢোকার উদ্দেশ্যে ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় ভূ-মধ্যসাগর পাড়ি দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করেছে লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস।

শুক্রবার এক ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা থেকে বিরত থাকার জন্য বলা হয় বাংলাদেশিদের। সরকার যেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা, সব মানুষের সুবিধা নিশ্চিতের কথা বলছে, সেখানে নাগরিকের নিশ্চিত মৃত্যু অথবা বিদেশের কারাগারে বন্দি জীবনের দিকে ধাবিত করায় এই চিত্র অত্যন্ত পরিতাপের। যা কারও কাছেই কাম্য হতে পারে না। সংশ্লিষ্টরাও এ দায় অস্বীকার করতে পারে না। বাংলাদেশে যদি পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকতো, তা হলে এভাবে মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে যাওয়া লাগত না। আমরা চাই সরকার এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুক। সরকার যদি ব্যাপকভাবে কর্মসংস্থানের দিকে বিশেষ নজর দেয় তাহলে অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে। এর পাশাপাশি যেসব দালাল ও অপরাধী এর সঙ্গে যুক্ত তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। মানব পাচারের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মানব পাচার আইনকে কার্যকর করাও অপরিহার্য। আমরা আইনের যথাযথ প্রয়োগ চাই, বাংলাদেশ থেকে এই জঘন্য অপরাধের, অবসান চাই।