পরেরবার নিজে এসে দেখে যেও : মুশফিককে মালিক

পরেরবার নিজে এসে দেখে যেও : মুশফিককে মালিক

তিন দফা পাকিস্তান সফরের প্রথম দফায় বুধবার রাতে লাহোর পৌঁছেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। নিষেধাজ্ঞার কারণে নেই সাকিব আল হাসান, অবসর নেয়ায় নেই মাশরাফি বিন মর্তুজা। এছাড়া পারিবারিক কারণে পাকিস্তান সফরে দলের সঙ্গে সিনিয়র খেলোয়াড়দের অন্যতম মুশফিকুর রহীম।

পঞ্চপান্ডবের মধ্যে শুধুমাত্র তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদই আছেন এবারের পাকিস্তান সফরে। অথচ ২০০৮ সালের পাকিস্তান সফরে ছিলেন পাঁচজনের সবাই, এইচএসসি পরীক্ষার কারণে এশিয়া কাপে যাননি সাকিব আল হাসান। কিন্তু ১২ বছরের ব্যাপারে অনেক কিছুই বদলে গেছে পাকিস্তানে।


বিশেষ করে বড়সড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন বসে গেছে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঘিরে। যে কারণে এবার দলের সঙ্গে পাকিস্তান সফরে যাননি মুশফিক। তবে পাকিস্তানের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার শোয়েব মালিকের মতে, পাকিস্তানের অবস্থা এখন অনেক ভালো। তিনি মুশফিককে আহ্বান জানিয়েছেন, পরেরবার যেনো তিনি (মুশফিক) নিজে পাকিস্তান গিয়ে সেখানের অবস্থা দেখে আসেন।

একইসঙ্গে মালিক আশাবাদী, এবারের সফরে যাওয়া বাংলাদেশি ক্রিকেটাররাই দেশে ফিরে দলের অন্যান্য খেলোয়াড়দের রাজি করাবে পাকিস্তান সফরের জন্য। বুধবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে মালিক বলেন, ‘বাইরের দেশের বিভিন্ন লিগে খেলতে গেলে, অনেকেই জিজ্ঞেস করে পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থার ব্যাপারে। পাকিস্তানে যেমন নিরাপত্তা দেয়া হয়, সেটা বিশ্বের কোথাও নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের কিছু খেলোয়াড়ও নিরাপত্তার ব্যাপারে জানতে চেয়েছে। আমি তাদের বলেছিলাম যে নিজেরাই এসে দেখে যায় যেনো। শুধুমাত্র একজন খেলোয়াড় (মুশফিকুর রহীম) আসছে না ওদের। আমি শুধু ওকে বলতে চাই, দয়া করে পরেরবার এসো এবং নিজেই দেখে যেও। বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা এখান (পাকিস্তান) থেকে ফেরার পর নিজেরাই অন্যান্য খেলোয়াড়দের রাজী করাবে পাকিস্তান সফরের ব্যাপারে।’

নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে কথা শেষেই ফেরা হয় মাঠের ক্রিকেটে। মালিক জানিয়ে দেন, মুশফিক বা সাকিব না থাকলেও বাংলাদেশের বর্তমান দলটা বেশ শক্তিশালী। যেহেতু সবশেষ বিপিএলে খেলেছেন, তাই প্রায় সবাইকেই কাছ থেকে দেখেছেন মালিক।


সে অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বেশ শক্তিশালী দল নিয়েই আসছে। তাদের কাঠামোতে বেশ পরিবর্তন এসেছে গত কয়েক বছরে। একটা ভারসাম্যপূর্ণ দলই পাকিস্তান আসছে। তবে আপনারা যদি আমাদের দলের দিকেও তাকান, এমন অনেক খেলোয়াড় আছে যারা বেশ অভিজ্ঞ। বাবর আজম তো বিশ্বের অন্যতম সেরা। আমি অন্য দেশের লিগে খেলতে গেলে সবাই বাবরের প্রশংসা করে। এছাড়া অন্যরাও পারফর্ম করবে আমার বিশ্বাস।

এসময় মালিক সাফ জানিয়ে দেন, তার চিন্তায় এখনই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভাবনা নেই। বরং বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ নিয়েই মূলত ভাবছেন তিনি, ‘আমি এখন বিশ্বকাপের ব্যাপারে ভাবছি না। আমাকে নেয়া হয়েছে বাংলাদেশ সিরিজের জন্য। সুযোগ পেলে নিজের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করবো। বিশ্বকাপ এখনও অনেক দূরে, আমি অত লম্বা লক্ষ্য স্থির করি না। যা এখন আমার হাতে আছে, সেদিকেই মনোযোগ দিতে চাই।’