পরিবেশঘাতী ইটভাটা

পরিবেশঘাতী ইটভাটা

নগরায়ন ও শিল্পায়নের দ্রুত বিকাশে নির্মাণ উপকরণের মধ্যে ইটের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই যথাযথ নজরদারির অভাবে কোনো রকম নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র গড়ে উঠছে। এর সিংহভাগই পরিবেশসম্মত নয়। খবর এসেছে নাটোরের গুরুদাসপুরে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই কৃষি জমিতে গড়ে উঠেছে ১৩টি ইটভাটা। আবাদি জমিতে ইট ভাটা স্থাপন করায় কমছে ফসলের উৎপাদন। এসব ইটভাটার মধ্যে সাতটি পৌরসভা ও ছয়টি  ইউনিয়ন পর্যায়ে গড়ে উঠেছে। বিশ বছরের বেশি সময় ধরে চলছে এসব ভাটা। পরিবেশ অধিদপ্তরের সর্বশেষ (২০১৩) আইন অনুযায়ী, পৌরসভার মধ্যে কোনো ইটভাটা থাকা যাবে না। কিন্তু আইন উপেক্ষা করেই পৌরসভার সাতটি ইটভাটা সচল আছে। আর পৌরসভার কোল ঘেঁষে কৃষি জমিতে নতুন আরও পাঁচটি ও শহর থেকে দূরে একটি ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। কোনো ইটভাটারই পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন নেই। এমন ইটভাটায় চাষযোগ্য ভূমি বিনষ্ট হচ্ছে এবং পাশাপাশি পরিবেশের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ রকম নজির প্রায় সারা দেশেই কম-বেশি রয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী কৃষি জমি যেমন কোনোভাবেই অকৃষি কাজে ব্যবহার করা যাবে না, তেমনি পরিবেশ বিনষ্ট করে এমন কোনো কিছু করাও সমীচীন নয়। অবৈধ ইটভাটাগুলোকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। ইটভাটায় জমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহার করা হয়। ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়। কাঠ, কয়লা, কাঠোর গুড়া, ফার্নেস অয়েল ভাটায় পোড়ানো হয়। কাঠ পোড়ানো আইনগত নিষিদ্ধ কিন্তু মানা হয় না। ফলে বায়ু দুষণ বাড়ে। ভাটার আশ পাশের এলাকায় এসিড বৃষ্টির আশংকা থাকে, শস্যহানি হয়, ধাতব পদার্থে মরচে ধরে, ভূমি ক্ষয় হয়, ভূমিধসের আশংকাও থাকে। জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও ফসলের কথা ভেবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দ্রুত সক্রিয় হবে বলে আমরা আশা করি।