পরাজয় ঢাকতে আওয়ামী লীগের বিজয় উৎসব : মির্জা ফখরুল

পরাজয় ঢাকতে আওয়ামী লীগের  বিজয় উৎসব : মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নৈতিক পরাজয় ঢাকতেই আওয়ামী লীগ বিজয় উৎসব করছে। এ বিজয় উৎসবের মাধ্যমে তারা জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরাতে চায়। বিএনপির সঙ্গে ২০ দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো টানাপোড়েন নেই বলেও জানান তিনি। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। জিয়ার ৮৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তার কবরে এ শ্রদ্ধা জানান। জন্মবার্ষিকীতে জিয়ার কবরে সাধারণত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হলেও তিনি কারাগারে থাকায় এবার বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে এ শ্রদ্ধা জানানো হয়। জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় দন্ডিত হয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন বেগম জিয়া। শনিবার ছিল জিয়াউর রহমানের     ৮৩তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের বিজয় উৎসব প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে গণতন্ত্রের পরাজয় হয়েছে, আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় পরাজয় হয়েছে। কারণ তারা (আওয়ামী লীগ) জনগণ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। নির্বাচনে কিভাবে ভোট ডাকাতি হয়েছে, তা দেশের মানুষ দেখেছে। এই ভোট ডাকাতির পর বিজয় উৎসব করা বা আনন্দ করার কোনো মানে হয় না। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৈতিক পরাজয় ঢাকতে এবং জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরাতে আওয়ামী লীগ এ বিজয় উৎসবের আয়োজন করেছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাকে স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়ে মানুষের বাক স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমানের জন্মদিনে শপথ নিয়েছি- আমরা গণতন্ত্রকে মুক্ত করব এবং কারারুদ্ধ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে ও তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করব। নির্বাচনে পরাজয়ের পর এই মুহূর্তে বিএনপির করণীয় কী হবে-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির মহাসচিব বলেন, বিএনপি কর্মসূচির মধ্যেই আছে। সাধারণ মানুষ ৩০ ডিসেম্বরের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে। মানুষকেও তার জায়গা থেকে প্রতিহত করতে হবে। বিএনপি এই জোচ্চুরির নির্বাচনের বিরুদ্ধে কর্মসূচি পালন করবে। দলীয় ফোরামে আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে নির্বাচনে ভরাডুবির পর গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে বিএনপির যোগ না দেওয়ায় অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কেননা তার কয়েকদিন আগেই ফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বলেছিলেন, নির্বাচনে জামায়াত নেতাদের ধানের শীষে প্রার্থী দেওয়ার কথা আগে জানায়নি বিএনপি। নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে জামায়াতের নেতাদের প্রার্থী করা ‘ভুল’ ছিল বলে সম্প্রতি স্বীকার করেন তিনি। এসব ঘটনায় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপির টানাপোড়েন শুরু হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই ধরণের কথা সব সময় আসে, আর আপনাদের বিভিন্ন রকম চমৎকার চমৎকার সমস্ত স্টোরির মধ্য দিয়ে বিভিন্ন রকমের স্টোরি আসে। আমাদের মধ্যে কোনো টানাপোড়েন নেই। ঐক্যফ্রন্ট আছে, ২০ দলীয় জোটও আছে। বিএনপির ভেতরে কোনো টানাপোড়েন আছে কিনা-প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কোনো টানাপোড়েন নাই। বিএনপি ইউনাউটেড অ্যাজ ইট ইজ। এ সময় মির্জা ফখরুলের সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, মো. শাহজাহান, রুহুল আলম চৌধুরী, ডা. জাহিদ হোসেন, আহমেদ আযম খান, কেন্দ্রীয় নেতা এমরান সালেহ প্রিন্স, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, শিরিন সুলতানা, আব্দুস সালাম আজাদ, হারুনুর রশিদ, সেলিম রেজা হাবিব, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জাসাসের শ্রদ্ধা নিবেদন : বিএনপির শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাসের পক্ষ থেকে জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জাসাসের সহ-সভাপতি ওবায়দুর রহমান চন্দন, শায়রুল কবির খান, জাহিদুল আলম হিটো, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক জাকির হোসেন রোকন প্রমুখ। এর আগে ভোরে ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) উদ্যোগে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টার দিকে বিএনপির মহাসচিব আনুষ্ঠানিকভাবে এই মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন। এ সময় ড্যাবের নেতা অধ্যাপক ডা. একেএম আজিজুল হক, অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, অধ্যাপক ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দুইদিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত শুক্রবার রাজধানীতে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।