পবিত্র হজ্ব

পবিত্র হজ্ব

আজ পবিত্র হজ্ব। প্রতি বছর জিলহজ্ব মাসের ৯ তারিখে বিশ্ব মুসলিমদের আরাফাতের ময়দানে অভূতপূর্ব বিশাল জমায়েত হয় এবং লাখো কন্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে, লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লা শারিকা লাকা লাব্বায়েক ....। পবিত্র হজ্ব পালন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নির্দেশিত অন্যতম ইবাদত। ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম। আর্থিক সামর্থ্যরে অধিকারী সব মুসলমানের জন্য এটি অবশ্য পালনীয় বা ফরজ ইবাদত। আল্লাহর মেহমান হিসেবে প্রতি বছর দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মুসলমান হজ্ব পালনে হেরেম শরিফে যান। মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতা সৃষ্টিতে হজ্বের অবদান অনস্বীকার্য। বিশ্বাসী মানুষ আল্লাহর দরবারে হাজির হয় বিনম্রচিত্তে। তারা স্রষ্টার উদ্দেশ্যে আকুতি জানিয়ে বলেন, তার নির্দেশেই তারা হাজির হয়েছেন। ঐশী আশির্বাদের প্রত্যাশায় ছুটে এসেছেন স্রষ্টার প্রতি আনুগত্য দেখাতে।

কাবাকেন্দ্রিক বিশ্বাসী মানুষের এ মহাসমাবেশ মানুষের ইসলামী মূল্যবোধ ও আদর্শ জাগিয়ে তোলে, তারা একে অপরের প্রতি সহমর্মিতার দীক্ষায় দীক্ষিত হবে। এমনটিই কাঙ্খিত। পবিত্র হজ্ব পালন এমন এক ইবাদত, যাতে শক্তি ও সামর্থ্য থাকতে হবে। জানমালের ত্যাগ স্বীকার করে আল্লাহ পাকের মেহমান হওয়া কত বড় ফজিলত ও মরতবার, তা বলে শেষ করা যায় না। আল্লাহ পাক মুসলিম বিশ্বকে সম্পদ দিয়েছেন। দিয়েছেন জনগণ। এ সম্পদ ও জনগণকে কাজে লাগিয়ে তারা বিশ্বের নেতৃত্বে আসনে অনায়াসে অভিষিক্ত হতে পারে। এই পবিত্র ইবাদত অনুষ্ঠানে সারা বিশ্বের মানুষের সৌভ্রাতৃত্ব, প্রেম-প্রীতি এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতির চরমতম নিদর্শন স্থাপিত হয়। হজ্ব পালনকালে আল্লাহর কাছে প্রতিটি বিশ্বাসী মানুষের এই অনুভূতিই জানানো উচিত।