পবিত্র আশুরা

পবিত্র আশুরা

আজ মহররম মাসের ১০ তারিখ। পবিত্র আশুরা। মুসলিম ইতিহাসে এ দিনটি ধর্মীয়ভাবে যেমন তাৎপর্যপূর্ণ তেমনি গভীর বেদনাবহ। তৎকালীন আরবের গোটা মুসলিম জাতি যখন এজিদের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারছিল না, সত্য উপলব্ধি করার পরও যখন অনিয়ম, নির্যাতন নীরবে হজম করে চলছিল, তখন ইমানের পাটাতনে দাঁড়িয়ে সাহসের বলিষ্ঠ উচ্চারণ করেন হযরত ইমাম হোসাইন (রা)। ফলে কারবালার মরুপ্রান্তরে বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদের (সা) দৌহিত্র এবং হযরত আলীর (রা) আদরের দুলাল হযরত ইমাম হোসাইনকে নিষ্ঠুর ও নৃশংসভাবে হত্যা করে স্বৈরশাসক এজিদের অনুসারীরা। ইমাম হোসাইন (রা) ছিলেন অসত্যের বিরুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী সত্য পথযাত্রীদের প্রাণের সান্ত¡না। স্বৈরশাসক ও জালিম শাহীর পতন আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল আপসহীন। অসত্য, অসুন্দর ও অকল্যাণের প্রতিভূদের কাছে মাথানত করার বদলে শাহাদতবরণকেই শ্রেয় বলে মনে করেছিলেন এই মহাপুুরুষ। শোকাবহ এ দিনটি তাদের কাছে অন্যায় ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার দিন।

১০ মহররম মানবজাতির ইতিহাসে নানা কারণে মহানবী হযরত আদম (সা) ও বিবি হাওয়া (আ) কে অসংখ্য নবীর স্মৃতি জড়িয়ে আছে এ দিনের সঙ্গে। কারবালায় ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে পরিবার-পরিজন এবং ৭২ জন অনুসারী শাহাদতবরণ করেছিলেন। কারবালায় ঘটনা শিক্ষা দেয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের যে লড়াই তা অপরাজেয়। ইয়াজিদ বাাহিনী হোসাইন (রা) তার পরিবার পরিজন ও সঙ্গীদের জীবন কেড়ে নিতে পারলেও ইতিহাস তাদের আদর্শের অমরতাকেই স্মরণ করে। আশুরা ও কারবালার মূল চেতনা ক্ষমতার লোভ, চক্রান্ত ও নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার লড়াই। এটি সমকালীন বিশ্ব পরিস্থিতিতেও খুবই প্রাসঙ্গিক। অন্যায়, শোষণ ও ষড়যন্ত্র থেকে পৃথিবীকে মুক্ত করতে কারবালার ত্যাগের মহিমায় সবার অন্তর আলোকিত ও শুদ্ধ হোক। সত্য ও ন্যায়ের জয় হোক। আশুরার এই পবিত্র দিনে কারবালার শহীদদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা।