পবিত্র আশুরা

পবিত্র আশুরা

স্টাফ রিপোর্টার : ‘নীল সিয়া আসমান, লালে লাল দুনিয়া- ‘আম্মা! লা’ল তেরি খুন কিয়া খুনিয়া। কাঁদে কোন ক্রন্দসী কারবালা ফোরাতে, সে কাঁদনে আঁসু আনে সীমারেরও ছোরাতে!’ আজ ১০ মহররম, পবিত্র আশুরা। কারবালার শোকাবহ ঘটনাবহুল এ দিনটি মুসলমানদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের প্রতীকের পাশাপাশি বিশেষ পবিত্র দিবস হিসেবে দিনটি পালন করা হয়। ইসলামের ইতিহাসে ১০ মহররম অসংখ্য ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে অবিস্মরণীয় ও মহিমান্বিত হয়ে আছে। এই দিনে পৃথিবী সৃষ্টি ও কেয়ামতের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশেও আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র আশুরা পালিত হবে। আজ সরকারি ছুটির দিন। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেইন (রা.) এবং তাঁর পরিবার ও অনুসারীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন। এ ঘটনা স্মরণ করে বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালন করে থাকেন। শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তাঁদের এই আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে। কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা ও পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী সকলকে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে প্রেরণা যোগায়। এ ছাড়া ১০ মহররম আশুরার দিন মহান আল¬াহতায়ালা পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং এদিনই কেয়ামত ঘটাবেন।

 এর বাইরে এদিন হযরত ইব্রাহিম (আ.) নমরুদের অগ্নিকুন্ড থেকে রক্ষা পেয়েছেন, হজরত আইয়ুব (আ.) এর কঠিন পীড়া থেকে মুক্তি, হযরত ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে মুক্তি পান, হজরত ঈসা (আ.) এর আসমানে জীবিত অবস্থায় উঠে যাওয়াসহ অসংখ্য ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে মহররমের ১০ তারিখ অবিস্মরণীয় ও মহিমান্বিত। এ রকম অসংখ্য ঘটনায় তাৎপর্যমন্ডিত এ দিনটি মুসলিম সম্প্রদায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্যের সাথে পালন করে আসছেন। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আজ রাজধানীর হোসাইনী দালান ইমামবাড়া থেকে তাজিয়া মিছিল বের হবে। এ ছাড়া মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বকশিবাজার, লালবাগ, পল্টন, মগবাজার থেকেও আশুরার মিছিল বের হবে। এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি রেডিও-টিভি চ্যানেল দিনের তাৎপর্য নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।