পদ্মার বালুচরে কলা চাষে শামীমের ভাগ্য বদল

পদ্মার বালুচরে কলা চাষে  শামীমের ভাগ্য বদল

পাবনা ও ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : ‘কৃষি ডিপ্লোমা পাশ করার পর সিদ্ধান্ত নেন চাকরির পেছনে না ছুটে নিজে কিছু করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। কি করা যায় এমন চিন্তায় তাকে বসে থাকতে হয়নি বেশিদিন। বাবা কৃষি কাজ করতেন। বিশেষ করে কলার আবাদ করে সফলও ছিলেন। এমনিতেই ঈশ্বরদী কৃষি উর্বর এলাকা। যেখানে সোনা ফলে। তাই সিদ্ধান্ত নেন কলার বাগান করার। সেই সিদ্ধান্ত আর কঠোর পরিশ্রম তাকে এগিয়ে নিয়েছে সামনের দিকে। পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। পদ্মার ধু ধু বালুচরে কাশবন কেটে করেন কলার বাগান। আর তাতেই বাজিমাত। অল্পদিনেই কলা আবাদের পান আশাতীত সাফল্য। বলা যায় কলা চাষে ভাগ্য বদলেছে তার।’এই গল্প যাকে ঘিরে তিনি হলেন ‘বাংলার কৃষক কৃষি খামারের’ স্বত্তাধিকারী শামীম আহমেদ। কলা আবাদ করে সাফল্য পাওয়ায় তিনি সবার কাছে এখন ‘কলা শামীম’ নামেই পরিচিত। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পুরাতন ঈশ্বরদী এলাকার মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে শামীম আহমেদ (কলা শামীম) কৃষি ডিপ্লোমা পাশ করে ৬৮ বিঘা জমি বাৎসরিক লিজ নিয়ে কাশবন কেটে সেখানে ফলিয়েছেন কলা গাছ। শামীমের কঠোর পরিশ্রমের কারণে বাগানের প্রতিটি গাছে শোভা পাচ্ছে কলার কাদ। এখন আর সেখানে বালুচর কিংবা কাশবন নেই। বালুচরে এখন সবুজের সমারোহ। লক্ষিকুন্ডা ইউনিয়নের পদ্মার দূর্গম ধু-ধু বালুচরের চারিদিকে তাকালেই চোখ জুড়িয়ে যায়, সবুজ কলার বাগান দেখে। আলাপকালে শামীম জানান, তার বাবা একজন প্রান্তিক কৃষক। অনেক আগে তিনি থেকেই কলার চাষ করতেন। বাবাকে দেখেই কলার  পদ্মার বালুচরে কলা

বাগান করার পরিকল্পনা মাথায় আসায় শামীমের। বর্তমানে তার খামারে ২৫ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেন। আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য্য, মনোবল ও কঠোর পরিশ্রম নিয়ে কাশবন কেটে কলার চাষ শুরু করেন। এক ভাই তিন বোন, মা-বাবা নিয়ে তার সংসার। শামীম আহমেদ বলেন, ৬৮ বিঘা জমি লীজ নিয়ে কলা বাগান গড়ে তুলি। এক প্রকার ঝুঁকি ও কঠোর মনোবল নিয়ে পদ্মার চরের কাশবন কেটে সেখানে সবুজের সমারোহ কলা বাগান গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি। আমার দেখা দেখি চরে অনেক যুবক এখন কলা চাষ করছে। অর্থ সংকটের কারণে ইচ্ছে থাকা সত্বেও অনেক কিছু করতে পারছি না। সহজ শর্তে এবং স্বল্প সুদে সরকারি বেসরকারি যে কোন ব্যাংক, বীমা, এনজিও বা ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ পেলে আমি আমার ‘বাংলার কৃষক কৃষি খামার’ প্রসারিত করতে পারব। বর্তমানে আমার বাগানের প্রতিটি গাছে রয়েছে কলার কাদি। প্রতিটি কলার কাদি ৪’শ টাকা দরে পাইকারি বিক্রয় করছি। একই সাথে আমার এই কলা খামার থেকে কিছুটা হলেও দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা মিটাতে পারব এবং এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান করতে সক্ষম হব।

বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটির সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত সফল কৃষক ছিদ্দিকুর রহমান কূল ময়েজ বলেন, শামীমের মতো শিক্ষিত যুবকেরা কৃষি কাজে এগিয়ে এলে আমাদের চেয়ে বেশি ভালো করবে। শামীমের বাগানের কলাগাছগুলো খুব ভালো হয়েছে। এক প্রকার চ্যালেঞ্জের কারণেই বালুচরের কাশবন কেটে সেখানে কলার বাগান করতে সক্ষম হয়েছেন শামীম। কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী বাগান পরিচর্যা করলে আরও বেশি প্রসারিত হবে শামীমের কলার খামার।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ আব্দুল লতিফ বলেন, শামীমের কলা বাগান পরিদর্শন করে দেখা গেছে গাছের অবস্থা বেশ ভালো, কলার বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতিটি গাছে কলার কাদ ঝুলছে, কলাগাছ দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। আমাদের কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে শামীমের মতো অনেক কৃষক আজ স্বাবলম্বী ও সফল। কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যাবসায় থাকলেই বালুচরের কাশবন কেটে ফসল ফলানো সম্ভব। তিনি আরও বলেন, শামীমের মতো শিক্ষিত যুবকেরা কৃষি কাজে এগিয়ে এলে তাদের ভাগ্যের যেমনি পরিবর্তন হবে একই সাথে কৃষিতে আরও বেশি ভালো করবে। শামীমের দেখাদেখি ওই এলাকাতে কৃষির বিপ্লব সৃষ্টি হয়েছে। অনেক বেকার যুবক কলাবাগান করে লাভবান হচ্ছে এবং কেউ কেউ কলাবাগান করার ইচ্ছে পোষণ করছে।