শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

পঞ্চগড় বিয়ের কথা বলে কলেজ শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে মারধর

পঞ্চগড় বিয়ের কথা বলে কলেজ শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে মারধর

পঞ্চগড় প্রতিনিধি :পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার কলেজ পড়–য়া এক তরুণীকে বিয়ের কথা বলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃস্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারি কলেজের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহীদ মিনারের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কের পাশে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধনে তানভীর জামান তনু,তানজীর তুষার,আবু তালেব, মুক্তারুজ্জামান, আরিফুর রহমান,আবু সায়েদ, এএফএম তানজীরুল ইসলাম বক্তব্য দেন। বক্তারা ওই শিক্ষার্থীকে মারধরের মামলার আসামীদের গ্রেপ্তার ও দৃস্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। আহত ওই শিক্ষার্থী বর্তমানে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছে। ওই শিক্ষার্থী রবিউল ইসলামসহ চারজনকে আসামী করে গত ২৮ অক্টোবর তেঁতুলিয়া থানায় মামলা করেছে।  

মামলার অভিযোগ ও স্থানীয়রা জানায়, জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার খুটাগছ এলাকার আব্দুল হাইয়ের ছেলে রবিউল ইসলাম। সদ্য ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেছেন। রবিউলের বড় ভাই হাসিবুল ইসলামের স্ত্রী রূপালী আক্তারের সহপাঠী ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী। রূপালীর বিয়েতে রবিউলের সাথে তার পরিচয় হয়। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। চার বছর ধরে বিয়ের কথা বলে রবিউল ওই শিক্ষার্থীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে। কিন্তু ওই শিক্ষার্থী বিয়ের তাড়া দিলেও রবিউল বিয়ে করছিল না। ওই শিক্ষার্থী বর্তমানে পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারি কলেজে একটি বিভাগে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে। গত ২৭ অক্টোবর রবিউল বিয়ের কথা বলে মোবাইলে পঞ্চগড় থেকে তাকে তার বাড়িতে ওই শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তার পরিবারের লোকজন ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করতে থাকে।

এ সময় তার স্মার্ট ফোনটি নিয়ে সব তথ্য ডিলেট করে দেয় তারা। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীর চিৎকারে স্থানীয় কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পরদিন ২৮ অক্টোবর ওই শিক্ষার্থী বাদি হয়ে রবিউল ইসলামসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামী করে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় একটি মামলা করেন। অপর আসামীরা হলেন রবিউলের বড় দুই ভাই আনোয়ার হোসেন (৩৩) ও আহম্মদ আলী (৪৫) এবং রবিউলের ভাবী রূপালী বেগম (২০)। ঘটনার পর থেকেই আসামীরা পলাতক রয়েছে।

রবিউলের মা আম্বিয়া বেগম ওই শিক্ষার্থীর সাথে তার ছেলের সম্পর্ক ছিলো স্বীকার করে বলেন, ওই মেয়ের সাথে রবিউলের এক বছর আগে সম্পর্ক ছিলো। পরে তাদের মধ্যে কাটাকাটি হয়ে গেছে। রবিউলের বিয়ের কথা শুনে ২৭ অক্টোবর ওই শিক্ষার্থী বাড়িতে ঢুকতে চাইলে একটু ধাক্কাধাক্কি হয়েছে তবে মারধর করা হয়নি। এ বিষয়ে রবিউলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি জহুরুল ইসলাম বলেন, ওই কলেজ ছাত্রী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। আসামীরা সবাই পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া ওই শিক্ষার্থী অসুস্থ থাকায় ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়নি। তবে ডাক্তারি পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে।