নয়া সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু ৩০ জানুয়ারি

নয়া সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু ৩০ জানুয়ারি

একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে আগামী ৩০ জানুয়ারি (বুধবার)। সেদিন বিকেল ৩টায় অধিবেশন শুরু হবে। সংসদের প্রথম ও বছর শুরুর অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়ে থাকেন।

বুধবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এ অধিবেশন আহ্বান করেন।

সংবিধান অনুযায়ী, প্রথম অধিবেশন শুরুর দিন রাষ্ট্রপতি সংসদে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। পরে রাষ্ট্রপতির ওই ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব জানাতে সাধারণ আলোচনা হয়। আবার চলমান সংসদের কোনো এমপি মারা গেলে অধিবেশন শুরুর পর মুলতবি করা হয়। এই সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলেও শপথ নিতে পারেননি সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তাই অধিবেশন শুরুর পর মরহুমকে নিয়ে আলোচনার পর সংসদের বৈঠক কিছুক্ষণ মুলতবি করা হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন।

সংবিধানের অনুচ্ছেদ-৭৪ অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম বৈঠকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করতে হয়। এজন্য কমপক্ষে এক ঘণ্টা আগে নোটিশ দিতে হয়। একজন প্রস্তাবক, একজন সমর্থক ও প্রার্থীর সম্মতি লাগে।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন ছাড়াও প্রথম অধিবেশনে সংসদের সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব; অধ্যাদেশ উত্থাপন (যদি থাকে), সংসদীয় কমিটি গঠন (যদি থাকে), সংবিধান বা আইন অনুযায়ী কোনো রিপোর্ট উপস্থাপন (যদি থাকে) ও রাষ্ট্রপতির ভাষণ থাকে। তবে রেওয়াজ অনুযায়ী প্রশ্নকাল থাকে না।

অধিবেশন শুরুর আগে কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে শীতকালীন এ অধিবেশন কতোদিন চলবে। কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্বে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী দলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ উপস্থিত থাকবেন। তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলে এ অধিবেশন দীর্ঘ হবে।

গত বৃহস্পতিবার (৩ জানয়ারি) সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে চার ধাপে ২৮৯ জন এমপি শপথ নেন। প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী নিজে শপথ গ্রহণ করেন এবং শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে অন্যদের শপথ বাক্য পাঠা করান তিনি। সেদিন অসুস্থতার কারণে আওয়ামী লীগের সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম শপথ নিতে পারেননি। পরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া বিএনপির পাঁচ জন ও ঐক্যফ্রন্টের দুই জন এমপি শপথ নেননি।

এর আগে ৩০ ডিসেম্বর ২৯৯ সংসদীয় আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে গাইবান্ধা-৩ আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। আর নির্বাচনের দিন ব্রাক্ষণবাড়িয়া-২ আসনের তিনটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত হওয়ায় ওই আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ২৫৭টি আসন। জাতীয় পার্টি পেয়েছে ২২টি আসন। বিএনপি পেয়েছে পাঁচটি আসন। এছাড়া, ওয়ার্কার্স পাটি (বাসদ) ৩টি, গণফোরাম, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ২টি করে, তরিকত ফেডারেশন ও জাতীয় পার্টি (জেপি) ১টি করে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৩টি আসনে জয়ী হন।