উপজেলায় আওয়ামী লীগ-আওয়ামী লীগ লড়াই

নৌকার বিরোধিতাকারীরা শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছে

নৌকার বিরোধিতাকারীরা শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছে

মাহফুজ সাদি : সদ্য সমাপ্ত পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দেশব্যাপী আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ লড়াই হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন মাসের মাথায় বিএনপি জোটবিহীন একতরফা এ নির্বাচনে ভিন্নতর এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। এবার আওয়ামী লীগের দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নৌকার বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী জিতেছে। ফলে স্থানীয় এমপি-মন্ত্রী ও প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে যারা নৌকা ডুবিয়েছেন, তাদের সবার বিরুদ্ধে শিগগিরই শাস্তিমূলক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। দলটির নেতারা বিষয়টি জানিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্র মতে, পাঁচ ধাপে দেশের ৪৯২ উপজেলার মধ্যে অন্তত ৪৬৫টিতে নির্বাচন হয়, যার মধ্যে ১৪৪টির মতো উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। বাকিগুলোর সিংহভাগ দলটির প্রার্থীরা জয় পান, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। এছাড়া বিএনপির বহিষ্কৃত    
কয়েকজনসহ অন্য দলের প্রার্থীরাও কিছু উপজেলায় জয়ের দেখা পেয়েছেন। পাঁচ ধাপের এ নির্বাচনে গত ১০ মার্চ প্রথম, ১৮ মার্চ দ্বিতীয়, ২৪ মার্চ তৃতীয়, ৩১ মার্চ চতুর্থ ও ১৮ জুন পঞ্চম ও শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে বেশ কিছু উপজেলায় ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেয়া হয়। সবমিলিয়ে ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, উপজেলা নির্বাচনে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়েছেন তারা। প্রায় অর্ধেক উপজেলায় নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রার্থী হয়েছেন দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত নেতারা। আওয়ামী লীগের সাবেক ও বর্তমান অনেক মন্ত্রী-এমপি তাদের পছন্দের বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এর পেছনে অবশ্য সঠিক প্রার্থী বাছাইয়ে দলের ব্যর্থতা এবং দলীয় কোন্দলও দায়ী। ফলে নৌকার প্রার্থী হেরেছেন।

 এমন উপজেলার সংখ্যা নেহাত কম নয়। এটি এখন আওয়ামী লীগের জন্য নতুন মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, সংখ্যাটা বেশি হওয়ায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে যেমন সমস্যা, তেমনই না শাস্তি না হলেও দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে। সূত্র বলছে, প্রথম চার ধাপে দেশের ৪৪৫টি উপজেলা নির্বাচন হয়, যার ১৩৫টিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা জয়ী হয়েছে। শেষ ধাপে অনুষ্ঠিত ২০ উপজেলায়র ৯টিতে দলটির বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন। বাকি উপজেলাগুলোর বেশিরভাগেই আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া সুনামগঞ্জ, বান্দরবান ও টাঙ্গাইলসহ কয়েকটি উপজেলায় বিএনপির বহিষ্কৃত প্রার্থী এবং পার্বত্য তিন জেলার কয়েকটি উপজেলায় আঞ্চলিক দলের প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে জয় পেয়েছেন।

 এদিকে নৌকার প্রার্থীদের বিপক্ষে কাজ করলে দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। গত এপ্রিলে কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় নেয়া সে সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে তৃণমূল নেতারা দাবি জানিয়ে আসছেন। তারা বলছেন, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে শৃঙ্খলা নষ্ট হবে, তৃণমূলও দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই নৌকার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোদের দ্রুত বিচার করতে হবে। এমন অবস্থায় আওয়ামী লীগের অন্তত চারজন নীতি নির্ধারক নেতা দৈনিক করতোয়াকে বলেন, বিদ্রোহীদের সংখ্যা যতই হোক আর তাদের যত বড় নেতারাই মদদ দিক, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে দল। কারণ, নৌকার চেয়ে বড় কোনো নেই, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়। শেখ হাসিনার নৌকার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে এবং কাজ করে তারা পাড় পাবে না। জানা গেছে, বিদ্রোহী প্রার্থী এবং তাদের মদদদাতাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে চলতি মাসের শেষের দিকে বা আগামী মাসের শুরুর দিকে দলীয় সভা ডাকতে পারে আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে একাধিক অনুষ্ঠানে এ নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ও আব্দুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় বেশ কয়েকজন নেতা।