নেপালকে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু করতে বললো জাতিসংঘ

নেপালকে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু করতে বললো জাতিসংঘ

করতোয়া ডেস্ক : এক যুগ ধরে চলা মাওবাদী সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার দিতে ব্যর্থ নেপালকে অবিলম্বে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর তাগিদ দিয়েছে জাতিসংঘ। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয় জাতিসংঘ। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি স্বাক্ষরিত জাতিসংঘের বিবৃতিতে বলা হয়, সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার দিতে নেপালের অবশ্যই একটি সমাধানে আসতে হবে। নতুবা শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না। সরকার ও মাওবাদীদের নিপীড়ন প্রমাণের লক্ষ্যে ২০১৫ সালে দুটি কমিশন গঠন করা হয় নেপালে। সেই সময় চলমান গৃহযুদ্ধে ১৭ হাজার নিহত এবং অগণিত নিখোঁজের পরিসংখ্যান পাওয়া যায়। এখন পর্যন্ত একটি মামলাও নিষ্পত্তি হয়নি। এছাড়া তিন বছর আগে গঠিত কমিশন দুটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে অচিরেই।

 নেপাল প্রশাসনের প্রতি কমিশনের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। দেশটিতে যুদ্ধাপরাধের শিকার সুমন অধিকারী বলেন, ‘শুধু শুধু কমিশনের মেয়াদ বাড়ানোতে কিছুই হবে না, আমাদের এমন একটি কমিটি দরকার, যাদের আমরা বিশ্বাস করতে পারবো, যারা সত্যিই ন্যায়বিচার দেবে।’ উল্লেখ্য, কমিশন গঠনের পর ৬০ হাজার অভিযোগ লিপিবদ্ধ করা হয়। এর মধ্যে একটি কমিশন তিন হাজার গুমের অভিযোগ নিয়ে কাজ শুরু করে এবং অন্যটি ধর্ষণ ও হত্যার মতো অভিযোগ নিয়ে কাজ শুরু করেছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০০৬ সালে শেষ হওয়া এই সংঘাতে শান্তিপ্রক্রিয়া চলমান। কিন্তু বিদ্রোহী যুদ্ধাপরাধীদের অনেকেই এখন রাজনীতির অঙ্গনে পা রেখেছেন। এমনকি ক্ষমতাসীন দলেও যুদ্ধাপরাধীরা রয়েছে। তারা বিচারপ্রক্রিয়া প্রভাবিত করতে পারেন এমন আশঙ্কাও রয়েছে জনমনে।