নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যমুনায় ইলিশ ধরা চলছেই

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যমুনায়  ইলিশ ধরা চলছেই

সিরাজগঞ্জ অফিস: ইলিশ প্রজননের মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বসে নেই সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, চৌহালী ও এনায়েতপুর থানার জেলেরা। সর্বক্ষন যমুনা নদী জুড়ে ডিমওয়ালা ইলিশ নিধন অব্যাহত রেখেছে তারা। সব বাধা ও অভিযানের ভয়-ঢরের তোয়াক্কা না করে হাজার-হাজার জেলেরা ঝাঁকে-ঝাঁকে এ মাছ ধরার বর্তমানে এক ধরনের প্রতিযোগীতায় নেমেছে। মাছ ধরা জেলেরা জানিয়েছে, থানা গুলোর অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা, মৎস্য অফিসের কর্মচারী ও কিছু জনপ্রতিনিধি এবং রাজনীতিবিদদের সমন্বিত সিন্ডিকেটকে জনপ্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার করে টাকা দিয়েই মাছ ধরছে তারা। তাদের ভয়-ঢর শুধু ম্যাজিষ্ট্রেটকে। তবে জেলেদের কাছ থেকে টাকা বানিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ সহ জড়িতরা। এদিকে অসাধু জেলেদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি টাকা আদায়কারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।
সিরাজগঞ্জের ৯টি উপেজলার মধ্যে কাজিপুর, সদর, বেলকুচি, এনায়েতপুর, চৌহালী ও শাহজাদপুর থানা হচ্ছে যমুনা নদী বিদৌত। এসব এলাকার চর ও পাড়ের মানুষ গুলো অন্যতম পেশা মাছ শিকার। এসব এলাকায় অন্তত ২০ হাজারের মত জেলের মধ্যে ৪ হাজার ৩৮৭ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। এর মধ্যে চৌহালী উপজেলায় নিবন্ধিত ১ হাজার ৪৫২ জন এবং শাহজাদপুরে ১২শ জনের মত সহ প্রায় ৬/৭ হাজার জেরে রয়েছে। এনায়েতপুর থানা এ দুটি উপজেলারই অন্তঃর্ভুক্ত।

সরেজমিনে যমুনা নদীর সদিয়াচাঁদপুর, জালালপুর, সোনাতনী, কৈজুরী, ঘোরজান ইউনিয়ন সহ আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, নদী জুড়ে অবাধে দেয়া হয়েছে ক্যারেন্ট জাল। নৌকা করে ফেলা জালে অসংখ্য মা ইলিশ ছাড়াচ্ছে জেলেরা। অপরিচিত নৌকা দেখলেই জাল-দড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে তারা। এসময় সোনাতনী ইউনিয়নের চাঁনতারা গ্রামের জেলে আব্দুল মালেক, জালালপুর ইউনিয়নের সৈয়দপুরের জেলে রাসেল মিয়া, পাকড়তলার কুড়ান, ঘোরজান ইউনিয়নের চর ধিতপুরের রওশন আলী সেখ জানান, থানা পুলিশের দালালদের মাধ্যমে ৩ থেকে ৫ হাজার করে টাকা আমরা দিয়েই মাছ ধরছি। আমাদের অভাব প্রতিবার প্রচুর ইলিশ আসে বলে এ সময়টার জন্যই অপেক্ষা করি আমরা। তাই পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেই মাছ ধরছি।

তবে চৌহালী থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাস, এনায়েতপুর থানার ওসি মাহবুবুল আলম, শাহজাদপুর থানার ওসি তদন্ত শহিদুল ইসলাম পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অসত্য বলে দাবী করে জানান, অন্য বারের চেয়ে এবার কয়েক গুন বেশি তৎপরতা নিয়ে পুলিশ ইলিশ রক্ষায় কাজ করছে। টাকা নেবার বিষয়টি ভিত্তিহীন। আমরা নিজেরা কখনো একা-একা অভিযানে যাইনা। আমরা মৎস্য কর্মকর্তা, ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমেই অভিযান চালাই।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামছুদ্দোহা ও চৌহালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেওয়ান মওদুদ আহমেদ জানান, আমরা দিন রাত জেলেদের মাছ নিধনের বিরদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি। এ পর্যন্ত চৌহালীতে ৭৪ জনকে এবং শাহজাদপুরে ১৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা, ৩ লাখ মিটার জাল পোড়ানোর পাশাপাশি জব্দ করা ৩শ কেজি ইলিশ অসহায়দের মাঝে বিতরন করেছি। এছাড়া দিন-রাত আমরা অভিযান অব্যাহত রাখছি।