নির্বিচারে ধ্বংস হচ্ছে গাছ

নির্বিচারে ধ্বংস হচ্ছে গাছ

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কিশোরগঞ্জ ভায়া বাবুগঞ্জ সড়কে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুই পাশ দিয়ে সরকারি খরচে লাগানো হয়েছিল গাছগুলো। দিনে দিনে বড় হয়ে ওঠা সেই গাছে নজর পড়েছে ইউনিয়ন পরিষদের এক সাবেক সদস্যের। গত বৃহস্পতিবার  সারা দিনে একে একে ৫৪টি গাছ কেটে নিয়ে গেছেন তিনি। দিনে দুপুরে সরকারি সড়কের পাশের গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।  দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাস্তার পাশে প্রায়ই দেখা যায় গাছ কাটার মহোৎসব। উজাড় করা হয় বনাঞ্চল। বনাঞ্চলে গড়ে উঠেছে জনপদ। বনের জমি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার হচ্ছে। গড়ে তোলা হচ্ছে নানা ধরনের শিল্প-কারখানা, যা বনের পরিবেশ নষ্ট করছে। নষ্ট হচ্ছে জাতীয় সম্পদ। বিদেশে যেখানে পরিবেশ রক্ষা করতে গিয়ে লাভজনক বড় বড় শিল্প-কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়, সেখানে আমাদের দেশে বাণিজ্যিক কারণে বন উজাড় করার উদাহরণ সৃষ্টি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেখানে কোন দেশের জন্য কমপক্ষে পঁচিশ শতাংশ বনভূমি থাকা আবশ্যক।

সেখানে বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ মাত্র ৭ শতাংশ। তারপরও এর পরিমাণ কমছে দিন দিন। সত্য বটে, গত ক’বছরে বৃক্ষ রোপণে জনসচেতনতা বেড়েছে। তবে তার তুলনায় গাছ কাটা হচ্ছে অনেক বেশি। সংবিধানের ১৮ (ক) অনুচ্ছেদ ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী এ ব্যাপারে সরকারের দায়বদ্ধতা রয়েছে। সে দায় পালনে গাছ অক্ষুন্ন রাখার কথা বলা হয়েছে। জনসমক্ষে প্রায় সবাই বন থেকে গাছ কেটে নেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও নির্মম সত্য হলো, দেশের বনাঞ্চলগুলো দিন দিনই হয়ে পড়ছে বৃক্ষশূন্য। বৃক্ষ নিধনরোধে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সর্বোপরি বৃক্ষ নিধন প্রতিরোধে সৃষ্টি করতে হবে ব্যাপক জনসচেতনতা।