নির্বাচনের ট্রেন বিএনপির স্টেশনে থামবে না: কাদের

নির্বাচনের ট্রেন বিএনপির স্টেশনে থামবে না: কাদের

স্টাফ রিপোর্টার: ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চার বছর পূর্তিতে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবসের’ সমাবেশে আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচন হয়েছিল বলেই আজকে গণতন্ত্র সুসংহত রয়েছে। দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে বিএনপি আবারও ষড়যন্ত্র করছে। ষড়যন্ত্র করে লাভ হবে না। নির্বাচনে অংশগ্রহণ ছাড়া বিএনপির সামনে অন্য কোন পথ খোলা নেই। নির্বাচনের ট্রেন বিএনপি বা কারো জন্য অপেক্ষা করবে না। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীতে পৃথক পৃথক জনসভায় আওয়ামী লীগ নেতা এসব কথা বলেন। ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র রক্ষা দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিন আওয়ামী লীগ ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ এবং উত্তর আওয়ামী লীগ বনানী  মাঠে জনসভার করে। সমাবেশ শেষে এ দুটি স্থান থেকেই বিশাল বিজয় মিছিল বের করা হয়, যা ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বিজয় মিছিল ও সমাবেশে রাজধানীতে একাদশ সংসদের নির্বাচনী মহড়া দেয় আওয়ামী লীগ। বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। তিনটার আগেই কানায় কানায় পূর্ন হয়ে যায় দুটি সমাবেশ স্থল। সমাবেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনও কারো জন্য অপেক্ষা করবে না। নির্বাচনের ট্রেন বিএনপির স্টেশনে থামবে না।

 আপনারা না আসলে রাজনীতির ভবিষ্যত মিস হয়ে যাবে। আরেকবার রাজনৈতিক আত্মহত্যা হবে। তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী বেগম জিয়া বলেছেন, ‘বিএনপিকে ছাড়া নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না’। অপেক্ষা করেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে, নির্বাচনে আসুন। নির্বাচন ঠেকাতে চাইলে বাংলার জনগন সেটা প্রতিহত করবে। কাদের বলেন, সময়, স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে। নির্বাচন ঠেকানোর সাধ্য থাকলে দেখান, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণ আপনাদের প্রতিহত করবে। কাদের বলেন, আজকে বিএনপির রাজনৈতিক আত্মহত্যা দিবস। একদিকে জনগণের গণতন্ত্রের বিজয় দিবস, অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক শক্তির আত্মহত্যা দিবস। আগামী নির্বাচনে অংশ না নিলে আরেকবার আত্মহত্যা দিবস পালন করতে হবে।

বিএনপির নেতা মওদুদ আহমদের সমালোচনা করে কাদের বলেন, বহুরূপী ব্যারিস্টার সাহেব, আপনাকে সকলে চেনে। দেশে একটু ঝড়-ঝঞ্জা দেখলে বিদেশে গিয়ে পালিয়ে থাকেন। ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে বাড়ি দখল করতে গিয়ে আদালতে ধরা খেয়ে রাস্তায় কান্না করেছেন। এই লোক যদি দেশের আইনমন্ত্রী হয়, দেশের বারোটা বেজে যাবে। এসময় ড. কামাল হোসেন ও খালেদা জিয়াকে প্রশ্ন করে কাদের বলেন, আইপিইউ ও সিপিইউ যে সংসদকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই বড় দুটি সংগঠনের নেতৃত্বও দিচ্ছে এই সংসদের সদস্যরা। তাহলে গণতন্ত্রের সংকট আছে? আপনারা নির্বাচনে আসেননি, এটা কি গণতন্ত্রের দোষ? ওবায়দুল কাদের বলেন, মরা গাঙে আর জোয়ার আসে না। আন্দোলনের ভাঙা হাত আর জোড়া লাগবে না। বিএনপি নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে কর্মীরা মাঠে নামে না। আর কর্মীরা বলে নেতারা মাঠে নামে না। তাহলে কালকে তাদের বিক্ষোভ করবে কে? তিনি বলেন, ৯ বছরে বিএনপি রাস্তায় কোনো বিক্ষোভ দেখাতে পারেনি। কোনো কোনো সময় কিছু কিছু নেতাকর্মী মাঠে নামলেও নেতারা ঘরে বসে হিন্দি সিরিয়াল দেখেছে। আর খবর নিয়েছে, পুলিশের প্রতিনিধি নরম না গরম! কাদের বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী বলছেন, পদ্মা সেতু ভাঙাচোরা। এতো কথা বলেন তিনি। যান গিয়ে দেখে আসুন, সেখানে স্প্যান বসেছে। তিনি আরো বলেন, মামলা করেছে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার। বেগম জিয়ার পছন্দের সরকার। আওয়ামী লীগ না। আপনার মামলার সাথে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, যদি ক্ষমতা থাকে নির্বাচন ঠেকাতে আসুন। আগুন সন্ত্রাস, পেট্রোলবোমা দিয়ে যদি কোনো নাশকতা করে নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা করেন, জনগণকে নিয়ে কঠোরভাবে দমন করা হবে। কোথাও পালাতে পারবেন না।

 নির্বাচনে আপনারা না আসলে সে দায় কারো নয়। আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন না হলে জিয়াউর রহমান ও এইচএম এরশাদ যেভাবে স্বৈরাচারি কায়দায় দেশ চালিয়েছিলো বাংলাদেশ আবার সেই জায়গায় চলে যেতো। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ধ্বংসাত্বক পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ি অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। বিএনপি নির্বাচনে না এলে মুসলিম লীগের চেয়েও খারাপ পরিণতি হবে। তাদের জন্য অন্য কোনো পথ খোলা নেই। আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, আগামী নির্বাচনে ভরাডুবি হবে বুঝতে পেরে বিএনপি ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আগামীতে কেউ যাতে নির্বাচন বানচাল করতে না পারে  সে দিকে নেতা-কর্মীদের সর্তক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

 ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনকি সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এনামুল হক শামীম, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার  হোসেন, উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ প্রমুখ। অপরদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের জনসভায় সভাপতিত্ব করেন একে এম রহমতুল্লাহ এমপি। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সাহারা খাতুন, ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, শ্রম সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।