নির্বাচনী সহিংসতা কাম্য নয়

নির্বাচনী সহিংসতা কাম্য নয়

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের গাড়িবহর, গণসংযোগ ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা এবং আগুন লাগানোর ঘটনা আরও ছড়িয়ে পড়েছে। গত সোমবার রাত ৯টা পর্যন্ত ১৭টি জেলার ২১টি আসনে এ ধরনের হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় আহত হন উভয়পক্ষের অন্তত ২২৬ জন। গ্রেফতার হন ৪১ জন। দলীয় নেতা-কর্মি, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গণমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর পর ১১ ডিসেম্বর থেকে গত সোমবার ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত কমপক্ষে ১৯৬টি আসনে হামলা ও সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এগুলো ঘটেছে মোট ১৩৮ আসনে। এতে মোট আহতের সংখ্যা অন্তত ৭২৬ জন। আক্রান্ত হন কমপক্ষে ৪৬ জন প্রার্থী। গ্রেপ্তার হন ৯২ জন নেতা-কর্মি। সংঘাতের কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়ে পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার।

নির্বাচনটি বহু দলীয় হচ্ছে, প্রচারণায় যাতে সবাই সমান সুযোগ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। একটি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান আবশ্যক। একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই আগামী দিনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জল করবে। পরমতসহিষ্ণুতা ও রাজনৈতিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলে সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে -এ ব্যাপারে-কোনো দ্বি-মত নেই। সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে অবশ্যই সবার অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও আস্থাশীল নির্বাচনের বিকল্প নেই। সব পক্ষকেই সহযোগিতা ও সহাবস্থানের মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।