নিরীহ জাহালমের কারাভোগ

নিরীহ জাহালমের কারাভোগ

শেষ পর্যন্ত অবসান হলো জাহালমের জীবনের এক করুণ অধ্যায়ের। বিনা অপরাধে তিন বছর কারাগারে থেকে গত রোববার উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে জনৈক আবু সালেকের বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা হয়। এর মধ্যে ২৬টিতে জাহালমকে আসামি আবু সালেক হিসেবে চিহ্নিত করে অভিযোগ পত্র দেয় দুদক। এসব মামলায় ২০১৬ সালে জাহালম গ্রেফতার হন। এরপর থেকেই তিনি জেল খাটছেন, আদালতে হাজিরা দিয়ে চলেছেন। গত ৩০ জানুয়ারি জাতীয় একটি দৈনিকে জাহালমকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে  বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আসে। এরপর হাইকোর্টের নির্দেশে আইনি প্রক্রিয়ায় জাহালম মুক্তি পান। জাহালমের প্রতি ভীষণ অন্যায় করা হয়েছিল। তার জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া বছরগুলো কেউ তাকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না।

জেল থেকে প্রতিবারই আদালতে এসে জাহালম-আমি আবু সালেক নই জাহালম- এই আকুতি জানালেও কেউ তাতে কর্ণপাত করেননি। কিন্তু পত্রিকার একটি প্রতিবেদন জাহালমকে মুক্তির স্বাদ পৌঁছে দেয়। জাহালম টাঙ্গাইলের একটি হতদরিদ্র পরিবারের সদস্য। তার মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালায়। আর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত কর্মকর্তারা সোনালী ব্যাংকের সাড়ে ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের দায় চাপায় সেই পরিবারের নিরীহ জাহালমের ওপর। আর প্রকৃত আসামি আবু সালেক থেকে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এসব ভুয়া তদন্ত ও অভিযোগ গঠনের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। ব্যাংকটির কারা কারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। যেভাবে তদন্ত ও অভিযোগ পত্র দেওয়া হয়েছে, তা সত্যিই বিশ্বাস করা কঠিন। ন্যায় বিচারের স্বার্থেই জাহালমকে ফাঁসানোর ঘটনায় কারা কারা জড়িত-তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিতে হবে।