নিরাপদ খাদ্যেও ‘রোল মডেল’ হওয়া সম্ভব

নিরাপদ খাদ্যেও ‘রোল মডেল’ হওয়া সম্ভব

আতাউর রহমান মিটন : শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি যে, বাংলাদেশের মানুষ গড়ে প্রতিদিন ২৪০০ কোটি টাকার খাবার গ্রহণ করে। শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খাদ্যের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তেল ছাড়া যেমন গাড়ি চলে না, তেমনি খাবার ছাড়া প্রাণ বাঁচতে পারে না। খাদ্য সে কারণে মানুষের প্রথম ও প্রধান মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। খাবার নিরাপদ হবে এটাই স্বাভাবিক। যা খেলে একজন মানুষের পেট খারাপ হয়, শরীরের পুষ্টি বৃদ্ধি হয় না, জন্ডিস, ক্যান্সার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এর মত প্রায় ২০০ রকম অসুখ হয়, তা খাদ্য হিসেবে গণ্য হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ প্রতিদিন যে খাবার খাচ্ছে তা নিয়ে সর্বস্তরে বিস্তর উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ভয় বিরাজমান। মানুষ বেঁচে থাকার জন্য খাবার খাচ্ছে কিন্তু সেই খাবারই যদি অসুস্থতার বা মৃত্যুর কারণ হয় তাহলে সান্ত¡না কোথায়!

খাবার নিয়ে মানুষের এই উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা নিরসনে সরকারের সদিচ্ছা রয়েছে বলেই আমার বিশ্বাস। নিরাপদ খাদ্য আইন - ২০১৩ প্রণয়নের মাধ্যমে সরকার সেই সদিচ্ছার প্রমাণ দিয়েছে। ওই আইনের আওতায় ২০১৫ সালে গঠিত হয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। আর ২০১৮ সালে প্রথমবারের মত ২ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস হিসেবে ঘোষণা দিয়ে সরকার নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণের সদিচ্ছার পুনঃবহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পৃথিবীতে প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র দেশ যারা ‘জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস’ উদযাপন করছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে যে, জাতিসংঘ বাংলাদেশের এই দিবসের আলোকে পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও ‘নিরাপদ খাদ্য দিবস’ উদযাপনের কথা ভাবছে। আর সেটা যদি হয় তখন বাংলাদেশ গোটা বিশ্বে আবারও ‘রোল মডেল’ এর মর্যাদা লাভ করবে।

পৃথিবীর ইতিহাসে আমরাই প্রথম এবং একমাত্র জাতি যাঁরা মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য বুকের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করেছিল। আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো সেই একুশে ফেব্রুয়ারি আমরা কোনদিনই ভুলিনি। আমরা প্রতিবছর গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় শহীদ দিবস পালন করে যাচ্ছি। আমাদের এই ত্যাগ, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতায় মুগ্ধ ও অনুপ্রাণিত হয়ে বিশ্বব্যাপী এখন ২১শে ফেব্রুয়ারি তারিখে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ পালন করে। মহান ভাষা শহীদের আত্মদানে রঞ্জিত এই মহান মাসে নিরাপদ খাদ্য দিবস পালনের ঘোষণা সরকার এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এ ছাড়াও ক্ষমতাসীন দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্য’ নিশ্চিতকরণকে বিশেষ অঙ্গীকার হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। এই পদক্ষেপসমূহ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক এবং নিরাপদ খাদ্যের পক্ষে সরকারের আন্তরিকতাই নির্দেশ করে। সরকারের এই সদিচ্ছাকে আমরা সাধুবাদ জানাই।

জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস উপলক্ষে গত রবিবার, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ তথা খাদ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ইতিমধ্যে আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সেখানে সফলতা অর্জন করেছি। আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। খাদ্যে ভেজাল দেয়াও এক ধরনের দুর্নীতি। এই দুর্নীতির বিরুদ্ধেও আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি।’ অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশে আন্তর্জাতিকমানের একটি খাদ্য পরীক্ষাগার নির্মাণেরও অঙ্গীকার করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সুদৃঢ় বক্তব্যের যথাযথ প্রয়োগ দেখার জন্য দেশবাসী অপেক্ষমাণ। তবে মনে রাখতে হবে, ভেজালবিরোধি অভিযান পরিচালনার নামে যেন নিরীহ উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা না হয়। মানুষকে বোঝাতে হবে, সহায়তা দিতে হবে সক্ষমতা বৃদ্ধির।

প্রসঙ্গক্রমে একটি কথা বলা দরকার, খাদ্যে ভেজাল ও খাদ্য দূষণ এক কথা নয়। খাদ্যে ভেজাল দেয়াটা অনৈতিক ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। খাদ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে কোন কেমিক্যাল মিশিয়ে বা অন্য কোন উপায়ে দূষণ ঘটানোটাও আইনের দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু অসচেতনতা ও দূষিত পরিবেশের কারণেও খাবার দূষিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে শাস্তি দেয়াটা বোধ হয় কঠিন। ব্যাপারটা একটু পরিষ্কার করা যাক। ধরা যাক, একজন গোয়ালা দুধে পানি মিশিয়ে বিক্রি করলেন। অথবা মহিষের মাংসের সাথে গরুর মাংশ বা ভেড়ার মাংসের সাথে খাসির মাংস মিশিয়ে বিক্রি করলেন। এটা খাদ্যে ভেজাল কিন্তু এর ফলে খাদ্যে দূষণ হলো না। খাদ্যে দূষণ বলতে বোঝায়, খাবারে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর মাত্রায় কোন রাসায়নিক দ্রব্যের উপস্থিতি যা খেলে মানুষ অসুস্থ হতে পারে, এমন খাবার। এই দূষণ কখনও ইচ্ছাকৃত বা কখনও অসচেতনতার কারণেও হয়ে থাকে। গত বছর সিরাজগঞ্জে বিয়ের অনুষ্ঠানে খাবার খেয়ে ডাক্তারসহ তিনজন মারা গিয়েছিলেন। খাদ্যে দূষণের ফলে এটা ঘটেছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু এই দূষণ ইচ্ছাকৃত ছিল বা কাউকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘটানো হয়েছিল এমন নয়। এটা হয়েছিল খাদ্য প্রস্তুতের সাথে জড়িতদের অসচেতনতার কারণে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মতে, বাংলাদেশে গত বছরও প্রায় ২২ লক্ষ মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। দূষিত খাবার গ্রহণই এর মূল কারণ হলেও এর সবটাই ইচ্ছাকৃত অপরাধ নয়। এখানে সচেতনতার একটা বিরাট ঘাটতি মূল কারণ।

টাঙ্গাইলের মধুপুর আনারসের জন্য বিখ্যাত। বর্তমান কৃষিমন্ত্রী ডঃ আব্দুর রাজ্জাক এমপি সেদিন নিরাপদ খাদ্য দিবসের অনুষ্ঠানে নিজেই বললেন, মধুপুরের কৃষকেরা বাজারে বিক্রির জন্য যে আনারস আবাদ করেন তাতে তারা এক ধরনের রাসায়নিক উপাদান মেশান, ফলে আনারসের সাইজ দ্রুত বেড়ে যায়। এরপর এই আনারস পুুরোপুরি পুষ্ট না হওয়া সত্বেও অধিক মুনাফার আশায় কেটে তাতে রাসায়নিক উপাদান মেশানো হয়, ফলে একরাতের মধ্যেই আনারসের রং আকর্ষণীয় হলুদ বর্ণ ধারণ করে। ক্রেতারা পাকা ভেবে এই আনারস কেনে কিন্তু সত্যিকারের পাকা আনারসের স্বাদ ও গন্ধ থেকে তারা বঞ্চিত হয়। একইভাবে আমাদের কলা পাকানো হয়, টমেটো পাকানো হয় এবং আমসহ ফল-ফলাদি পাকানো হয়। বাংলাদেশে ফল পাকাতে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার আইন করে নিষিদ্ধ করা সত্বেও এর ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা যায় নি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। ফলে ক্রেতারা একদিকে যেমন প্রতারিত হচ্ছেন, তেমনি অন্যদিকে তারা ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো ফল ও ফসল খেয়ে ধীরে ধীরে বিষক্রিয়ার শিকার হচ্ছেন। এটা নিঃসন্দেহে এক ধরনের ‘স্লো পয়জনিং’! এই অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে। সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলের মত মানুষের খাবারে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য মেশানোর চেষ্টাও নির্মূল করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সুদৃঢ় ষোষণা ও আন্তরিকতার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।
সকলের জন্য ‘পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্য’ নিশ্চিত করাটা বেশ জটিল এবং কঠিন। খাদ্যকে নিরাপদ করতে হলে ক্ষেত থেকে পাত পর্যন্ত নিরাপদ ভ্যালু চেইন গড়ে তুলতে হবে। এর জন্য দেশের ১৮টি মন্ত্রণালয় প্রায় ৪২০টি সংস্থা ও বিভাগ এবং প্রায় ২৫ লক্ষ কর্মরত ব্যক্তির মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে হবে। এর বাইরে প্রতিটি পরিবারে রান্না বা খাবার তৈরির কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যেও কাজ করতে হবে। খাবার গ্রহণের আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার মত একটি সাধারণ অথচ গুরুত্বপূর্ণ ধাপটিও যথাযথভাবে অনুশীলন করতে হবে। জানতে হবে খাবারের গুণাগুণ সম্পর্কেও। সব মিলিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে সকলের জন্য ‘পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্য’।

বাংলাদেশে প্রায় ১১ হাজার আইন রয়েছে। একজন আইনজীবীর পক্ষেও সবগুলো আইন মনে রাখা সম্ভব নয়। কোন দেশেই সাধারণ মানুষের পক্ষে আইন মুখস্থ করে দিনাতিপাত করতে হয় না। আইন প্রয়োগ করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো। আইনের প্রয়োগ বা অপপ্রয়োগ সম্পর্কে ওয়াচডগ এর ভূমিকা পালন করে ‘গণমাধ্যম’ আর মানুষের প্রয়োজন ও উপকারিতা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিমত প্রকাশ করেন বুদ্ধিজীবী সমাজ বা চিন্তাশীল মানুষেরা। বাংলাদেশেও এখন নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের সরব ও সোচ্চার ভূমিকার কারণে অনেক যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। সরকারের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাপত্রগুলিতেও এর প্রক্ষেপণ দেখা যাচ্ছে। কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু পথ বড্ড দীর্ঘ। যেতে হবে আরও বহুদূর। “সুস্থ সবল জাতি চাই, পুষ্টিসম্মত নিরাপদ খাদ্যের বিকল্প নাই” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে ২০১৯ সালের জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস পালিত হলো। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ একটি নবীন প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের বিরাজমান জনবল সংকট দূর করার জন্য সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা স্যানেটারী ইন্সপেক্টরদের খাদ্য মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তর বা ডেপুটেশনে নিরাপদ খাদ্য র্কতৃপক্ষের অধীনস্থ করা আবশ্যক। শুধু দিবস পালনের আনুষ্ঠানিকতা দিয়ে সকলের জন্য পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এর জন্য ধাপে ধাপে সমাধানের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

খাদ্য পরিবহনে এখনও বিরাট জটিলতা রয়েছে। ঢাকার বাজারে যখন আমরা ৫০ টাকা কেজি বেগুন খাচ্ছি তখন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় ১০ টাকা দরে বেগুন বিক্রি হচ্ছে, তাও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যান্য খাবারের ক্ষেত্রেও দশা একই। গ্রামে কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের দাম পাচ্ছে না, অথচ শহরে ভোক্তারা কিনছেন চড়া দামে। এর পেছনে রয়েছে মধ্যস্বত্বভোগী, রয়েছে পরিবহন সংকট। সরকার চাইলেই এই পরিবহন সংকট দূর করতে পারে। গত ৩১ জানুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাক ভবনে অনুষ্ঠিত এ সংক্রান্ত আলোচনা সভায় ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বললেন, ‘সরকার এমপিদের করমুক্ত গাড়ি আনার সুযোগ দিচ্ছেন, ওনাদের তো গাড়ির দরকার নাই। বরং নিরাপদ খাদ্যের জন্য করমুক্ত গাড়ি আনার সুযোগ দেয়া উচিত।’ আমার মনে হয় তাসমিমা হোসেনের প্রস্তাবটা একটু আন্তরিকভাবে বিশ্লেষণ করলে আমরা খাদ্য পরিবহনে সংকট দূর করার পথ পেয়ে যাব। এর সাথে যুক্ত হবে ‘ট্রাক লাগবে’ জাতীয় অ্যাপভিত্তিক সেবার প্রচলন। ধরা যাক পঞ্চগড়ের একজন কৃষক ঢাকায় এক বস্তা সব্জি পাঠাবেন। এমন যদি হয়, একটা অ্যাপ আছে যেটা ব্যবহার করে সে দেখতে পাবে এখন কোন ট্রাক বা পরিবহনটি ঢাকা যাচ্ছে। এবার সে ঐ পরিবহন এর নির্দিষ্ট ষ্ট্যান্ডে গিয়ে যদি মালটা গাড়িতে তুলে দেয় তাহলে কম খরচে এবং সহজে এক বস্তা সব্জি ঢাকায় চলে আসতে পারে। এভাবে সরকার যদি সহায়তা করে অনেক তরুণ উদ্যোক্তা ‘পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্য’ নিশ্চিতকরণের ভ্যালু চেইন ব্যবস্থায় তাদের সৃজনশীলতা ও উদ্যম নিয়ে এগিয়ে আসতে পারে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্নত রাষ্ট্র গড়ার জন্য আপনি সংগ্রাম করছেন সেই সংগ্রামে দেশের তরুণ সমাজকে যুক্ত করুন। তাদের সুযোগ দিন। অতীতে অনেকেই হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লুট করে নিয়েছে। এদেশের কৃষক, যুব সমাজ কখনই এমন অন্যায় করেনি। বরং আপনার স্বপ্ন পূরণে ওরাই দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। দয়া করে ওদের জন্য দরজা খুলে দিন। পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনে রেয়াতী সুদে ঋণ পাবার সুযোগ সৃষ্টি করুন। নিরাপদ খাদ্য ফাউন্ডেশন গঠন করে দিন। সোনার বাংলা গড়ার কারিগরদের আপনার ছায়াতলে থাকার সুযোগ করে দিন। আপনার দূরদৃষ্টি সম্পন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগে সবার জন্য পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হোক। নিরাপদ খাদ্যেও বাংলাদেশ ‘রোল মডেল’ হোক। এটা সম্ভব। শুধু প্রয়োজন সদিচ্ছা।
লেখক : সংগঠক-প্রাবন্ধিক
[email protected]
০১৭১১-৫২৬৯৭৯