নিম্নমানের ওষুধ

নিম্নমানের ওষুধ

ওষুধ জীবন রক্ষাকারী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওষুধেও ভেজাল হচ্ছে। ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদনের বিষয়টি নিয়ে এ যাবত আলোচনা পর্যালোচনা কম হয়নি। দেশে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ অবৈধভাবে আমদানি হচ্ছে। আবার স্থানীয়ভাবেও কেউ কেউ এসব নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদন করছে। কখনো কখনো ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ আটকে অভিযানও চালানো হয়েছে, কিন্তু এর সুফল দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। গত সোমবার সহযোগী একটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, গত বছর অবৈধভাবে আমদানি করা মোট ১৯টি চালান জব্দ করা হয়েছে, যাতে ৪২ কোটি টাকার বেশি মূল্যের ওষুধ ছিল। জানা যায়, অসাধু ব্যবসায়ীরা অন্যান্য পণ্যের মধ্যে লুকিয়েও ওষুধ আমদানি করে। কিছুদিন আগে র‌্যাবের একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত রাজধানীর অ্যাপোলো হসপিটালের ফার্মেসি থেকে ক্যান্সারের ওষুধসহ ৩০টি আইটেমের মেয়াদোত্তীর্ণ তিন কার্টুন ওষুধ জব্দ করে। ওষুধ শিল্পে বাংলাদেশের অনেক প্রসার ঘটেছে এ যেমন সত্য, তেমনি এ ক্ষেত্রে নানা রকম তুঘলকি কান্ড চলছে এও সত্য।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ ওষুধ রফতানি  করছে। কিন্তু কিছু সংখ্যক কোম্পানির নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদনের খবর প্রায়ই আমাদের গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশিত হতে দেখা যায়, যা চরম উদ্বেগজনক, অন্যদিকে প্রশ্নবোধক। ওষুধের মান নিয়ে কোনো রকম ছাড় দেওয়ার অবকাশ নেই। ওষুধ প্রশাসন বিভাগের জবাবদিহিতা দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করাও জরুরি। নিম্নমানের ওষুধ নিশ্চিহ্ন করতে না পারলে জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মধ্যে পড়তে বাধ্য। এ ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সহ প্রত্যেকটি বিভাগকে, স্ব স্ব দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠ হতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থাই কেবল এমন সর্বনাশা কর্মকান্ডের যবনিকাপাত ঘটাতে পারে। এ ক্ষেত্রে যা যা করণীয় এর সবকিছুই করতে হবে দ্রুত।