নিবর্তনমূলক ধারাসমূহ বাতিল করুন

নিবর্তনমূলক ধারাসমূহ বাতিল করুন

স্বাধীন সাংবাদিকতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে এমন সব ধারা-উপধারা বহাল রেখে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংসদে পাস করায় উদ্বেগ জানিয়ে আসছে সাংবাদিকসহ সুশিল সমাজ। পাশাপাশি এ আইনের বিষয়ে সাংবাদিক সমাজের দেওয়া সুপারিশ আমলে নিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করতেও সরকারের প্রতি আহবান জানান তারা। বহুল আলোচিত এই বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের উদ্বেগ কতটা গভীর। খোদ সম্পাদক পরিষদ রাজপথে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে তা স্পষ্ট করেছে। সব আপত্তি ও মতামত উপেক্ষা করে ১৯ সেপ্টেম্বর সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করা হয়েছে। আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল করে সেগুলি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিভিন্ন ধারায় ছড়িয়ে দেওয়া এবং বৃটিশ আমলের অফিসিয়াল সিক্রেটস আইন অন্তর্ভুক্ত করা, বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার ও ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করার বিধান রাখায় এটি দিয়ে যে কাউকে নিগ্রহ করার আশংকা দেখা দিয়েছে।

উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে সংবাদপত্রকে বিকল্প সংসদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সংসদে রাষ্ট্রীয় কাজ কর্মের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়। সংবাদপত্রে সরকারের কাজ কর্মের ত্রুটি বিচ্যুতি তুলে ধরে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা হয়। উন্নত দেশগুলোতে এর জন্য সংবাদ মাধ্যমকে নানাভাবে সহযোগিতা করা হয়। এর উল্টোটা হয় তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশে। ক্ষমতাসীনরা বরাবর সেখানে সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধেরই সুযোগ খুঁজতে থাকে। বাংলাদেশও যেন তার ব্যতিক্রম নয়। আমরা স্বাভাবিকভাবেই আশা করেছিলাম, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যেসব ধারা নিয়ে আপত্তি উঠেছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার স্বার্থে সেগুলো বাতিল করা হবে। কিন্তুু সেসব না করার অর্থ হলো সংবাদ মাধ্যমের মত প্রকাশের পথরুদ্ধ করার পাশাপাশি সরকারের তথ্য আড়াল করাকে উৎসাহিত করা। তথ্যটি কোন উৎস থেকে পাওয়া গেল, সেটি দেখা সরকারের দায়িত্ব নয়। তারা দেখবে তথ্যটি সঠিক কিনা। আইনে গুপ্তচর বৃত্তি রাখার কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে আমরা মনে করি না। আমরা এখনও আশা করি, গণতন্ত্রের স্বার্থে, গণতান্ত্রিক সমাজের স্বার্থে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক ধারা-উপধারাগুলি বাতিল করে সরকার শুভ বুদ্ধির পরিচয় দেবেন এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে অক্ষুন্ন রাখবেন।