নিখোঁজের দেড় মাস পর ফিরলেন সিজার

নিখোঁজের দেড় মাস পর ফিরলেন সিজার

স্টাফ রিপোর্টার:  নিখোঁজ হওয়ার দেড় মাস পর বাসায় ফিরেছেন ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোবাশ্বার হাসান সিজার। তার বাবা মোতাহার হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে একটি অটোরিকশায় করে বনশ্রীর বাসায় ফেরেন সিজার। ‘উৎপলের মত সিজারকেও চোখ বেঁধে এয়ারপোর্ট রোডে রেখে গিয়েছিল। পরে একটা অটোরিকশায় করে ও বাসায় আসে। এখন ও ঘুমাচ্ছে।’ সাম্প্রতিক সময়ে নিখোঁজদের মধ্যে সাংবাদিক উৎপল দাস ফিরে আসেন গত মঙ্গলবার। আড়াই মাস নিখোঁজ থাকা উৎপলকে একটি মাইক্রোবাসে করে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে রেখে যাওয়া হয়।

আড়াই মাস ‘অজ্ঞাতবাসে’ থাকার পর ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ রায়ও গত ১৮ নভেম্বর পরিবারের কাছে ফিরে আসেন। খিলগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহাঙ্গীর কবীর খান শুক্রবার সকালে বলেন, সিজারের ফিরে আসার বিষয়টি তার পরিবারের পক্ষ থেকে রাতেই পুলিশকে জানানো হয়েছে। তার বাবা মোতাহার হোসেন রাত ১টার দিকে ফোন করেছিলেন। তিনি বলেছেন, বিমান বন্দরের সামনে তাকে মাইক্রোবাসে করে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সে সিএনজি নিয়ে বাসায় চলে আসে। সিজার অসুস্থ, বেশি কথা বলছে না। এজন্য আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তার বাসায় যাইনি। প্রয়োজনে পরে যাব।

গত ৭ নভেম্বর সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পর বিকাল থেকে তার ফোন বন্ধ পাচ্ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। রাতে তিনি না ফেরায় খিলগাঁও থানায় তারা একটি জিডি করেন। তার চাচা বিআইডিএস এর গবেষক মঞ্জুর হোসেন সে সময় বলেছিলেন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সমাজতত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সিজার ধর্ম ও রাজনীতি নিয়ে একটি গবেষণা প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আর উগ্রবাদের বিস্তার নিয়ে নিয়ে লেখালেখি করেছেন। তাছাড়া পারিবারিকভাবেও কিছুটা সমস্যায় ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতক মুবাশ্বার হাসান সিজার একসময় সাংবাদিকতাও করেছেন

 পরে তিনি যুক্তরাজ্যে মাস্টার্স ও অস্ট্রেলিয়ায় পিএইচডি করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পেও তিনি কাজ করেছেন। তার সন্ধান দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সতীর্থ ও শিক্ষকরা রাস্তায় নেমে মানববন্ধন করেন। সাম্প্রতিক সময়ে বহু মানুষ এভাবে নিখোঁজ হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিকেও অভিযোগের আঙুল তোলেন অনেকে। তবে অন্তর্ধানের আগের ঘটনাগুলোর মত সিজারের ক্ষেত্রেও পুলিশ ও র‌্যাব বলে এসেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তার আটক হওয়ার কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। সিজার এতদিন কোথায় ছিলেন, কারা তাকে চোখ বেঁধে নামিয়ে দিয়ে গেছে- এসব বিষয়ে কোনো তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি তার পরিবারের কাছ থেকে। সিজারের বোন তামান্না তাসনিম বলেন, ‘আসলে ও তো মেন্টালি একটু ট্রমার মধ্যে আছে। এজন্য ওকে আমরা এখনও এসব বিষয়ে প্রশ্ন করিনি। রেস্ট নিচ্ছে, রেস্ট নিক।’

 তিনি জানান, রাতে অটোরিকশায় করে বাসায় পৌঁছানোর সময় সিজারের কাছে কোনো টাকা পয়সা ছিল না। পরে বাসা থেকে ভাড়া দিয়ে দেওয়া হয়। ওই পরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের হেড শরিফুল হাসান  বলেন, ‘সিজার ভাইয়ের সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা হয়নি এখনও। উনি নিজেই হয়ত পরে কথা বলবেন।’ সাম্প্রতিক সময়ে নিখোঁজদের মধ্যে সিজার, উৎপল, অনিরুদ্ধসহ ছয়জন পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন। তাদের মধ্যে ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ রায়ের নামে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, তিনি ‘ব্যবসায়িক প্রতিহিংসার শিকার’। আর সাংবাদিক উৎপল বলেছেন, অপহরণকারীরা তার কাছে টাকা চেয়েছিল।