নিউজিল্যান্ড ট্র্যাজেডি : তীব্র নিন্দা ও শোক

নিউজিল্যান্ড ট্র্যাজেডি : তীব্র নিন্দা ও শোক

রক্তবন্যায় ভাসল শান্তির দেশ নিউজিল্যান্ড। গত শুক্রবার দেশটির অন্যতম নগরী ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে যাওয়া মুসল্লিদের ওপর শ্বেতাঙ্গ উগ্রপন্থিদের নির্বিচারে গুলিতে ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী সহ তিন বাংলাদেশি রয়েছেন। এটাই পশ্চিমা দুনিয়ায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ ও বড় হামলা। সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে যে মসজিদটিতে, সেখানে নামাজ আদায়ে যাচ্ছিলেন নিউজিল্যান্ড সফরকারী বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা। অল্পের জন্য তারা রক্ষা পেয়েছেন। মুসলিম ও অভিবাসী বিরোধী এক শ্বেতাঙ্গ ব্রেন্টন ট্যারান্ট যখন মসজিদে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছিল, তখন তার অদূরেই ছিলেন টাইগাররা। ৩-৪ মিনিট পরেই মুশফিক-তামিম-রিয়াদরা মসজিদে পৌঁছতেন। ভয়াবহ এ হত্যাযজ্ঞ থেকে টাইগাররা নিরাপদ থাকায় বাংলাদেশের মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছে।

  নিউজিল্যান্ড প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডেন্ট ক্রাইস্ট চার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী বন্দুক হামলার ঘটনাকে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কিত দিন আখ্যায়িত করেছেন। বিশ্ব নেতৃবৃন্দও এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম পাদপীঠ, শান্তির দেশ, নিরাপত্তার দেশ নিউজিল্যান্ডের মাটিতে গত কয়েক দশকের মধ্যে এ ধরনের ঘৃণ্য সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা নজিরবিহীন। আমরা এ হামলার তীব্র নিন্দা শোক ও সমবেদনা জানাই। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে হেইটক্রাইম বেড়ে যাওয়ার জন্য মুসলিম বিদ্বেষ ও বর্ণবাদী রাজনীতিকে দায়ী করা হচ্ছে। বিশেষত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর বিশ্বের প্রধান বহুজাতিক-গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রটিতে  সাম্প্রদায়িক বর্ণবাদী উগ্রতা ও অসহিষ্ণুতা বেড়ে চলেছে। প্রত্যেক ধর্মই শান্তির সুমহান বার্তা দিলেও সব ধর্মেই এ ধরনের অবিমৃশ্যকারী আদর্শ লালন করে থাকে কিছু মানুষ নামের অমানুষ।