নারীর প্রতি সহিংসতা

নারীর প্রতি সহিংসতা

সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতার উৎকট রূপ পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রায় নিত্য গণমাধ্যমে বহুমাত্রিক নারী নির্যাতনের যে চিত্র ফুটে উঠছে- তাতে সঙ্গতই প্রশ্ন দাঁড়ায় এর শেষ কোথায়? গৃহাভ্যন্তরে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের সাত বছর পূর্ণ হয়েছে গত রোববার। ঠিক ওই দিনই রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের নিজ বাসায় খুন হন ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভিন। এ ছাড়া গত ৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের আকার শাহ এলাকায় ভাবী হাসিনা বেগমকে ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করে দেবর লিমন। এ ঘটনার তিন দিনও না যেতেই রাজধানীতে গত সোমবার সন্ধ্যায় দেবর শফিকুল ভাবি শারমিন আক্তারকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজধানীসহ সারা দেশে এমন খুনের ঘটনা একটার পর একটা ঘটেই যাচ্ছে। এতে করে উদ্বেগ বাড়ছে জনমনে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব খবরে আতঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। মানুষ শান্তিতে থাকতে চায়। কিন্তু সামাজিক অপরাধের ঘটনা একের পর এক ঘটতে থাকলে মানুষের মনে এক ধরনের ভীতি সঞ্চারিত হবে। আমাদের প্রশ্ন নারীর প্রতি সহিংসতা আর কত? কেন বারবার নারীকেই নিগৃহীত হতে হবে। কেন তাদের বারবার সহিংসতার বলি হয়ে মৃত্যু আর মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে। নারীর সামাজিক নিরাপত্তায় অনেক আইন তৈরি হয়েছে। তার প্রয়োগও হচ্ছে, কিন্তু তবুও কমছে না এই ভয়াল ব্যাধি। আমরা চাই অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। অপরাধীদের দ্রুত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে ভবিষ্যৎ অপরাধীকে সতর্ক করতে। দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে যাতে আর কেউ নারী নির্যাতনের মতো ঘৃণ্য অপরাধ করতে দুঃসাহস না দেখায় তাও নিশ্চিত করতে হবে।