নারীর প্রতি সহিংসতা

নারীর প্রতি সহিংসতা

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের নারীরা পারিবারিক সহিংসতা (শারীরিক বা যৌন নির্যাতন) শিকার সবচেয়ে বেশি হচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ১৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের পরই আছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের নাম। তবে স্বামী বা জীবন সঙ্গীর হাতে নারীদের নির্যাতনের হার পাকিস্তান ও নেপালের চেয়ে বাংলাদেশে বেশি। ৯মে প্রকাশিত গুটম্যাচার লান্সেট কমিশন’ এর এক জরিপে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নারীদের নির্যাতনের হার শতকরা ৫১ শতাংশ। প্রায় নিত্য গণমাধ্যমে বহুমাত্রিক নারী নির্যাতনের যে চিত্র ফুটে উঠছে - তাতে সঙ্গতই প্রশ্ন দাঁড়ায় এর শেষ কোথায়? বিচারহীনতার সংস্কৃতি বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের ঘটনা বাড়িয়ে চলছে। নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য দৃষ্টিকাড়া বলে অভিমত করা হলেও প্রদীপের নিচে বিরাজ করছে ঘোরতর অন্ধকার। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে অপরাধীরা।

সমাজের নানা ক্ষেত্রে নানাভাবে নারী নির্যাতনের যে চিত্র ক্রমপুষ্ট হয়ে চলেছে এটি নিঃসন্দেহে সভ্যতা এবং মানবতার কলঙ্ক। আমরা মনে করি, অনেক ক্ষেত্রেই আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে নিষ্ট না হওয়ার অভিযোগই গণমাধ্যমে প্রায়শই দেখা যায়। নিজেদের সভ্য জাতি হিসেবে দাবি করার ক্ষেত্রে আমাদের কার্পণ্যের অভাব নেই। কিন্তু নারীর প্রতি আচরণে মনে হয় যে এ গর্বের কোথাও যেন ঘাটতি আছে। নারীর প্রতি সদাচরণ এ দেশে অনুসৃত প্রতিটি ধর্মের অনুশাসনের অনুষঙ্গ। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে সে অনুশাসনের প্রতি আমাদের আনুগত্য কতটুকু তা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে প্রতি পদে পদে। অপরাধ করেও অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি জাতিকে জিম্মি করে রেখেছে নারী নির্যাতন বন্ধে সে জিম্মি অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।