নারী নির্যাতন বন্ধ হোক

নারী নির্যাতন বন্ধ হোক

সর্বক্ষেত্রে নারীর বিস্ময়কর সাফল্য লক্ষ্যণীয় হলেও সমাজে নারী নির্যাতন থামছে না। এ থেকে নারী কোনোভাবেই যেন রেহাই পাচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে নারীর প্রতি যৌন সহিংসতাসহ দায়ী করেছেন বিজ্ঞজনেরা। একই সঙ্গে তারা নারীর প্রতি সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, সামাজিক মূল্যবোধের অভাবকেও সমানভাবে দায়ী করে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে পুরুষদের ভূমিকা বলে জানিয়েছেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৭ সালে নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের মাত্রা ছিল ভয়াবহ। এ বছর উদ্বেগজনক হারে ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধিসহ পাঁচ হাজার ২৩৫ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এক হাজার ২৫১টি ধর্ষণ ও ২২৪টি গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি গত সোমবার জাতীয় গণমাধ্যম সমূহে প্রকাশিত হয়। এ বিজ্ঞপ্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতনের এ পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে।

নারী নির্যাতনের ঘটনার মধ্যে রয়েছে ধর্ষণ, গণধর্ষণ, হত্যা, আত্মহত্যা, উত্ত্যক্তকরণ, যৌতুকের কারণে নির্যাতনগুলো ভুক্তভোগী নারীর জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। নীতি নির্ধারকদের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে এবং এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজে বের করতে হবে। ধর্ষণসহ নারী- শিশু নির্যাতনের এমন বৃদ্ধি কি রাষ্ট্র ও সমাজকে তাড়িত করে না? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারী নির্যাতনের বিষয়টি এখনো রাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখছে না। সে কারণে চোখের সামনে নির্যাতন দেখেও সবাই মেনে নিচ্ছে। সুশাসনের অভাব এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। তাই এ ধরনের সংস্কৃতি যতদিন পরিবর্তন না হবে, ততদিন নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব হবে না। জনগণের বন্ধু ও সেবক হিসেবে কাজ করুক পুলিশ-জনমনে এ আস্থা ফেরাতে হবে।