নারী উদ্যোক্তা তৈরি

নারী উদ্যোক্তা তৈরি

নানা বাধা পেরিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হচ্ছেন নারীরা। নিজ উদ্যোগ গড়ে তুলেছেন উৎপাদনশীল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। যেখানে অনেকেরই কর্মসংস্থান হচ্ছে। তবে ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, আগের বছরের তুলনায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে ২০১৭ সালে নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ। আর মোট এসএমই ঋণের মাত্র ২ দশমিক ৯৫ শতাংশ পেয়েছেন তারা। ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সালে ব্যাংকে ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এসএমই খাতের ৭ লাখ ৪৫ হাজার উদ্যোক্তার মাঝে মোট এক লাখ ৬১ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে।

এসব ঋণের মধ্যে প্রায় ৫৪ হাজার নারী উদ্যোক্তা পেয়েছেন মাত্র ৪ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা। মোট এসএমই ঋণের যা মাত্র ২ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ২০১৬ সালে ৪২ হাজার নারী উদ্যোক্তা পেরেছিল পাঁচ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকার ঋণ। ওই বছরের মোট এসএমই ঋণের যা ছিল ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে এসএমই ঋণ বাড়লেও নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে বিতরণ কমেছে ৫৭৩ কোটি টাকা যা ১০ দশমিক ৭১ শতাংশ। উৎপাদনশীল খাতে ঋণ নিয়ে নতুন শিল্প স্থাপন বা কারখানার পরিধি বাড়ানো হয়। এতে করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। যে কারণে উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বাড়ানোর ওপর সব সময়ই জোর দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো বিবেচনা করলে এটা স্পষ্ট যে, সরকারি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প ছাড়া বেসরকারি খাতে উদ্যোক্তা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা খুবই কম। অথচ দেশের অর্থনীতির বিকাশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সহ নানা ধরনের স্বনির্ভর প্রকল্পে নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।