নাটকীয় ফাইনাল নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়

নাটকীয় ফাইনাল নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়

এরকম কোনো ক্রিকেট ম্যাচ আগে কখনো দেখেছে কি ক্রিকেট বিশ্ব? হয়তো বা দু-একবার। তবুও বিশ্বকাপের মতো আসরের ফাইনাল ম্যাচে দু'দুবার টাই! এ যেন অভাবনীয়, সকলের কল্পনাতীত ব্যাপার। লর্ডসে যারা ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের ফাইনাল ম্যাচটি নিজ চোখে দেখেছে তারা হয়তো এখনো ঘোরের মধ্যেই আছে। আর শরীরে চিমটে কেটে দেখছে, যা দেখলাম তা সত্যি তো!

নাটকীয় এই ফাইনাল নিয়ে তাই উত্তাল গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সকল সোশ্যাল মিডিয়া। চক্ষু ছানাবড়া হওয়ার ম্যাচ নিয়ে ঝড় চলছে সবখানে। যেখানে জিতে জিতে হেরে গিয়েও নিউজিল্যান্ডকে সবাই দিচ্ছে সান্ত্বনা, আর হারতে হারতে জিতে গিয়েও ইংল্যান্ডকে সকলে দিচ্ছে বাহবা।


দুনিয়া কাঁপানো শেষের ৩০ মিনিটের সারসংক্ষেপ এই যে, বিশ্বকাপ জিততে শেষ বলে ২ রান চাই ইংল্যান্ডের। কিন্তু স্ট্রাইকে থাকা বেন স্টোকস মাত্র ১ রান নিতে পারায় ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানেই একের পর নাটকীয় ঘটনা। আগে ব্যাট করে ১৫ রান করে ইংল্যান্ড। জবাবে নিউজিল্যান্ডও করে ১৫ রান। তবে স্বাগতিকদের তুলনায় ১ বাউন্ডারি কম মারার হিসেবে পড়ে বিশ্বকাপ হাতছাড়া করে ফেলে কিউইরা। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে মাতে ইংলিশরা।

এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায়গুলো ভরে যায় একের পর পোস্টে। টুইটারে অবিশ্বাস্য এই ম্যাচ নিয়ে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন লেখেন, ‘দু'দলের কেউ-ই হারার যোগ্য না। ক্রিকেটের জন্য কী দুর্দান্ত একটি দিন। আর এটাই নতুন প্রজন্মকে ক্রিকেটের প্রতি উৎসাহিত করবে।’

পাকিস্তানের সাবেক পেসার শোয়েব আখতারও এরকম বারুদে ঠাসা ম্যাচ দেখে চুপ করে থাকতে পারেননি। তিনি টুইট করেন, ‘ওহ ঈশ্বর! বিশ্বকাপ ফাইনালে কী দারুণ এক ম্যাচ। ভালো হতো শিরোপা যদি দু'দলই ভাগ করে নিত। ম্যাচ টাই আবার সুপার ওভারেও টাই। ইংল্যান্ড বেশি বাউন্ডারি মারার জিতেছে। লর্ডসে অনবদ্য এক দৃশ্য।’

এদিকে জনপ্রিয় ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার আকাশ চোপড়া ম্যাচ শেষেই জানান, ‘জীবনের সেরা ওয়ানডে ম্যাচ দেখলাম। বিশ্বকাপের সেরা ফাইনাল। এর ধারে-কাছেও কিছু নেই’

অন্যদিকে আরও এক বিখ্যাত ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে লেখেন, ‘শেষ বলে রানআউট! আড় কখনো কোনো বিশ্বকাপ ফাইনালে এমন কিছু ঘটবে না।’

ম্যাচ শেষে বিশ্বকাপ জয়ী ইংলিশ ওপেনার জেন রয় টুইট করেন, ‘এটাই ক্রিকেট!’ আর হেরে বেদনায় বিমর্ষ কিউই অলরাউন্ডার জিমি নিশাম লেখেন, ‘অনেক কষ্ট দিলো। আমার মনে হয়না আগামী কয়েক দশকেও আমি এই ম্যাচের শেষভাগ ভুলতে পারবো না।’