নদীর নাব্যতা ফেরাতে হবে

নদীর নাব্যতা ফেরাতে হবে

আমাদের দেশে সুদূর অতীত থেকে নৌ পথেই ছিল যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। শত শত নদীবেষ্টিত এ ভূ-খন্ডে বিশাল বিশাল পালটানা জাহাজ প্রবেশ করত। অভ্যন্তরীণ ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য পরিবহন হতো নৌ পথেই। জাহাজ, নৌকা, স্টিমার, লঞ্চযোগে পরিবহনের বিকল্প অন্য কোনো উপায় ছিল না। নদী পথে চলাচলে খরচ কম। কিন্তু এখন আমাদের নদ-নদীগুলো ক্রমেই শুকিয়ে যাচ্ছে। দিন দিন হয়ে পড়ছে মৃতপ্রায়। স্থবিরতায় আক্রান্ত নদীগুলোর বুকে স্রোত ফেরানোর কোনো উদ্যোগ নেই। নদী বিশেষজ্ঞরা বলেন, বেশির ভাগ নদীরই ভারতীয় অংশে উজানে বাঁধ দেওয়ার কারণে পানি প্রবাহ কমে গেছে। আমাদের দেশে ফসল রক্ষার জন্য অবৈজ্ঞানিকভাবে বহু নদীতে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল, এটি অভ্যন্তরের নদী শুকিয়ে যাওয়ার আর একটি কারণ।

 এই বাঁধগুলো অপসারণ করতে হবে, নিয়মিত নদী ড্রেজিং এর ব্যবস্থা করতে হবে। উত্তরবঙ্গের মরুকরণ প্রক্রিয়া ও দক্ষিণাঞ্চলে নোনা পানির বিস্তৃতি ক্রমেই বাংলাদেশের প্রকৃতি ও পরিবেশের মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করছে। এ সমস্যা ১৬ কোটি মানুষের বাঁচা-মরার সমস্যা। এ নিয়ে কালক্ষেপণের কোনো সুযোগ নেই। প্রকৃতিকে থমকে দিয়ে মানব সভ্যতা গতি পাবে, এ ধারণা যে কত ভুল তা মানুষ এখন উপলব্ধি করতে পারছে। সে জন্য সারা পৃথিবীতে চলছে নদী বাঁচাও আন্দোলন। ভারতের নর্মদা আন্দোলন থেকে নাইজেরিয়া, ফিলিপাইন-সবখানে চলছে নদী রক্ষার লড়াই। কিন্তু আমাদের দেশে নদী যেন সকলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। যার ক্ষমতা আছে সে-ই নদীর ওপর অত্যাচার চালানোর অধিকার ফলায়। নদী দখল হচ্ছে, নদী দূষণ হচ্ছে। প্রতিবাদ আসছে কিছু সংগঠন থেকে। কিন্তু কার্যকর প্রতিকার চোখে পড়ে না। নদীকে দখলমুক্ত, দূষণমুক্ত রাখুন। ড্রেজিং করে নদীগুলোর নাব্যতা ফিরে আনুন। কূটনৈতিক সংলাপ চালিয়ে উজানে নদীর প্রবাহকে মুক্ত করে দিন। নদী রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক হতে হবে।