নদীও জীবন্ত সত্তা

নদীও জীবন্ত সত্তা

ঢাকার অদূরে তুরাগ নদকে ‘জীবন্ত সত্তা’ ঘোষণা করে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে দেশের সব নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ের আইনগত অভিভাবক ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। কারও বিরুদ্ধে নদী দখলের অভিযোগ থাকলে তাকে নির্বাচনের জন্য এবং ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণারও নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশন ও বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের এ রায়কে ঐতিহাসিক, যুগান্তকারী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন নদী বিশেষজ্ঞরা। নদ-নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে এর আগে ঘোষণা দিয়েছে চারটি দেশ ইকুয়েডর নিউজিল্যান্ড, ভারত ও কলম্বিয়া। এই ঘোষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পঞ্চম। বাংলাদেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও অস্তিত্বের অনুষঙ্গ হলেও নদী  রক্ষায় আমাদের ব্যর্থতা প্রায় ক্ষমাহীন।

আইনজীবীদের মতে, শুধু তুরাগ নয়, সারা দেশের সব নদীই এখন থেকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে পরিগণিত হবে। নদীর ক্ষতি জীবন্ত মানুষের যে কোনো ক্ষতির মতোই অপরাধ বলে গণ্য হবে। হাইকোর্টের রায়ে সরকারকে নদী সংক্রান্ত অপরাধ দমনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন এবং আইন সংস্কারের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির বিধান করতে বলা হয়েছে। আদালতের রায়ের ফলে নদ-নদী সুরক্ষায় অবদান রাখবে বলে আশা করা যায়। প্রতিবেশি দেশ উজানে পানি প্রত্যাহার করায় আমাদের দেশের নদ-নদীগুলো মৃত প্রায়। এরই মধ্যে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মরুকরণ প্রক্রিয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। আবার বর্ষাকালে যখন নদীর উজানে থাকা সব বাঁধ খুলে দেওয়া হয় তখন আমাদের নদীগুলো সেই পানি ধারণ করতে পারে না। ফলে দেখা দেয় বন্যা। এতে হাজার হাজার কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়। আবার স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালীরা নদ-নদী ও জলাশয় দখল করে নানা অবকাঠামো গড়ে তুলছে। নদীর জায়গা দখলের মহোৎসব চলছে। আদালতের রায় যাতে সর্বোতভাবে কার্যকর হয় সেদিকে সরকার তীক্ষ্ম নজর রাখবে আমরা- এমনটিই আশা করতে চাই।