নদী ভাঙনে দুর্দশা

নদী ভাঙনে দুর্দশা

নদী ভাঙন নদীমাতৃক বাংলাদেশের দীর্ঘ দিনের সমস্যা। নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম ফসলের ক্ষেত, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা-মসজিদ হাট-বাজার ইত্যাদি। প্রবল ভাঙনে বসতভিটা, আবাদি জমি হারিয়ে নি:স্ব হচ্ছেন সম্পন্ন কৃষক। রাতারাতি ভূমিহীন অসহায় ছিন্নমূলে পরিণত হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। কোন মতে জীবন বাঁচতে পারলেও সর্বহারা হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে আশ্রয় নিতে হচ্ছে কোন মহাসড়ক বা রেল লাইনের ধারে। জলবায়ু পরিবর্তনের অনিবার্য ফল হিসেবে বাংলাদেশে নদী ভাঙনের ঘটনা বেড়েছে। পদ্মার বিশেষণ হলো প্রমত্তা, আর তার আরেক নাম কীর্তিনাশা। এ বছর পদ্মার প্রমত্ত রূপ বলা যায় বিকট আকার নিয়েছে, তার কীর্তিনাশা রূপটিও দেখাচ্ছে ভালোই। পদ্মা আমাদের প্রধান নদী। হিমালয়ের উৎস থেকে ভারতে এটি গঙ্গা, রাজশাহীর পাশ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এর নাম হয়েছে পদ্মা।

আর চাঁদপুরের কাছে মেঘনার সঙ্গে মিশে বিপুল জলরাশিতে পরিণত হয়ে এই যুগ্মধারা বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে। বাংলাদেশ রয়েছে এই প্রশস্ত দীর্ঘ নদীর ভাটিতে। পদ্মা নদীর ভাঙনে ১৯৬৭ সাল থেকে ৬৬ হাজার হেক্টর (২৫৬ বর্গমাইল) জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহরগুলোর একটি শিকাগোর প্রায় সমান। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসা আর্থ অবজারভেট রিতে প্রকাশিত এক তথ্যে উঠে আসে বলে খবর প্রকাশ করেছে গণমাধ্যমে। খবরে জানানো হয়, পদ্মার তীব্র ভাঙনের দুটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, এই নদী যেন মুক্তভাবে প্রবাহিত হতে পারে তা সুরক্ষায় তেমন ব্যবস্থা নেই। দ্বিতীয়ত, নদীর তীরে একটি বড় বালুচর রয়েছে, যা দ্রুতই ভাঙতে পারে। বিজ্ঞানীরা স্যাটেলাইট ছবিতে পদ্মার প্রস্থ, গভীরতা, গঠন এবং সামগ্রিক আকারের পার্থক্য উল্লেখ করে গত ৬৭ বছরে নদীর এই ভাঙন পরিমাপ করেছেন। নদী ভাঙন নদী মাতৃক বাংলাদেশের দীর্ঘ দিনের সমস্যা। বিভিন্ন সরকারের আমলে নদী ভাঙন প্রতিরোধে যে বিচ্ছিন্নভাবে কোন পরিকল্পনা ও প্রকল্প নেয়া হয়নি, তা নয়। তবে এর জন্য জাতীয় পর্যায়ে কোন সুষ্ঠু ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বা নীতিমালা নেই। সুপরিকল্পিতভাবে নদী শাসনসহ ভাঙন কবলিত এলাকায় পরিকল্পিত ভূমি ব্যবস্থাপনাও জরুরি। সরকার এ বিষয়ে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হবে বলেই প্রত্যাশা।