নদী ভাঙন কবলিতদের পুনর্বাসন

নদী ভাঙন কবলিতদের পুনর্বাসন

প্রমত্তা পদ্মার তীব্র ভাঙনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা। গত মঙ্গলবার নদীর তীব্র স্রোতে নড়িয়ার মূলফৎ গঞ্জ এলাকায় অবস্থিত ৫০ শয্যা বিশিষ্ট নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ভবনের একাংশ বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মসজিদ, দেয়ালসহ আরও ৩টি ছোট ছোট ভবন এবং একটি বেসরকারি হাসপাতাল নদীতে বিলীন হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ভবন সহ ১২টি ভবন নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। এদিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পদ্মায় বিলীন হয়েছে ৫০ বাড়ি, অন্যদিকে লালমনিরহাটে তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্ট ও কুড়িগ্রামের ধরলা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে রয়েছে এলাকাবাসী। এদিকে কুড়িগ্রামে ধরলায় পানি বৃদ্ধি রোধে ব্যবস্থার দাবিতে মানব বন্ধন করেছে এলাকাবাসী। নদী ভাঙন নদী মাতৃক বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সমস্যা।

কখনো উজান থেকে প্রচন্ড বেগে নেমে আসে প্রবল পানির তোড়। পাশাপাশি পানির তীব্র স্রোতে নদী ভাঙন এক ভয়াবহ ও বিপজ্জনক রূপ পরিগ্রহ করেছে। কোথাও আবার নদীর পানি কমতে থাকায় তীব্র হচ্ছে ভাঙনের প্রবণতা। প্রবল ভাঙনে বসতভিটা, আবাদি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন সম্পন্ন কৃষক। রাতারাতি ভূমিহীন অসহায় ছিন্নমূলে পরিণত হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম, ফসলের ক্ষেত, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা-মসজিদ হাট বাজার ইত্যাদি। এ সমস্যা প্রতি বছরের। ফলে মানুষের দুর্ভোগ ও আহাজারি বাড়ছে দিন দিন। বাংলাদেশে বছরে ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষ নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারায়। এ অবস্থায় নদী ভাঙন প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সমন্বয়ে সুষ্ঠু ও সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। সুপরিকল্পিতভাবে নদী শাসন সহ ভাঙন কবলিত এলাকায় পরিকল্পিত ভূমি ব্যবস্থাপনাও জরুরি। সরকার এ বিষয়ে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হবে বলেই প্রত্যাশা।