নদী দখলের চিন্তা করলে ভুল করবেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নদী দখলের চিন্তা করলে ভুল করবেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজধানীর চারপাশে দখল হয়ে যাওয়া নদীর তীর উদ্ধারে সরকার কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, কেউ যদি পুনরায় নদী দখলের চেষ্টা করেন তাহলে ভুল করবেন। আগের সরকার আর বর্তমান সরকার এক নয়। আমরা যা বলে তা-ই করি।

শনিবার (৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের খোলামোড়া ঘাটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরে সীমানা পিলার স্থাপন, ওয়াকওয়ে ও জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নদীর তীরবর্তী যেসব এলাকা দখলমুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো আবার কেউ দখল করার চেষ্টা করবে বলে আমি মনে করি না। কেউ যদি নদীর এলাকা দখল করার চিন্তা করেন, তাহলে ভুল করবেন। আগের সরকার আর বর্তমান সরকার এক নয়। আমরা যা বলে তা-ই করি।

কেউ দখলের চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, নদীগুলোকে দখলমুক্ত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। একে একে সবগুলো নদী দখলমুক্ত করে নদীমাতৃক বাংলাদেশকে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হবে।চার নদীর তীরে অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধনকালে মোনাজাতে অতিথিরা। ছবি: জিএম মুজিবুরপ্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে ৬ জুলাই থেকে নদীবন্দর এলাকায় ৩ হাজার ৮০৩টি আরসিসি সীমানা পিলার, রামচন্দ্রপুর থেকে বসিলা ও রায়েরবাজার খাল থেকে কামরাঙ্গীরচর পর্যন্ত এক কিলোমিটার ওয়াকওয়ে, এক কিলোমিটার কিওয়াল, আড়াই কিলোমিটার ওয়াকওয়ে অন পাইল নির্মাণ করা হবে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এ কাজ শেষ হবে।

এছাড়া, বিআইডব্লিউটিএ’র আরেক প্রকল্পের আওতায় নদীর তীরে ৫২ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে, ১০ হাজার ৮২০টি সীমানা পিলার, তিনটি ইকোপার্ক, ১৯টি আরসিসি জেটি, ১০০টি আরসিসি সিঁড়ি, ৪০৯টি বসার বেঞ্চ, ৪৪ কিলোমিটার নদীর তীর রক্ষাসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। ৮৪৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০২২ সালের জুন মাসে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নদীগুলো দখল করা হয়েছে বিষয়টি আমি মানতে নারাজ। আমি বলবো, ইতোপূর্বে রাষ্ট্র এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ’৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর শুধু নদী দখল নয়, আমাদের নদীমাতৃক বাংলাদেশের পরিচয় বদলে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। সেই সময় রাষ্ট্র কোনো ভূমিকা নেয়নি বলেই নদীগুলো দখল হয়ে গেছে।

আগামী ১০ বছরের মধ্যে বুড়িগঙ্গাসহ সব নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীগুলো মানুষের উপকারী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

ধর্মীয় স্থাপনা গড়ে নদী দখল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ধর্মীয় চিন্তাবিদদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, অবৈধ জায়গায় ধর্মীয় স্থাপনা হতে পারে না। তাই আমরা অবৈধস্থানে স্থাপিত স্থাপনাগুলো অপসারণ করে অন্য একটি স্থানে স্থাপনের ব্যবস্থা করছি।নদীর জায়গা দখলমুক্ত করার কার্যক্রমে যারা বাধা দিতে আসবেন তারা কেউই রেহাই পাবেন না। এ কার্যক্রমে কেউ হস্তক্ষেপ করলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ।

স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, যারা নদী দখল করে তাদের কোনো পরিচয় নেই। তারা যে সরকার ক্ষমতায় আসে সেই দলের নেতাদের ঘাড়ে চেপে বসে দখল কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। কিন্তু আমরা নদী দখলদারদের প্রশ্রয় দেবো না।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশবাদী ও কলাম লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুস সামাদ প্রমুখ।