নতুন রূপে ভোট ডাকাতি শুরু : ফখরুল

নতুন রূপে ভোট ডাকাতি শুরু : ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস : বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৭তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দশ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। আগামী ২৫ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত এই কর্মসূচি হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথসভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এ সময় সদ্য অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে নতুন কায়দায়, নতুন রূপে ভোট ডাকাতি শুরু হয়েছে। ভোটকেন্দ্র দখলের রাজনীতি শুরু হয়েছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগ করে ইসি পুনর্গঠনের দাবি জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করার যোগ্য নয়। যারা একটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারে না, জনগণের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করতে পারে না, তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচন কিভাবে পরিচালনা করবে? বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই নির্বাচন কমিশনের শুধু পদত্যাগ নয়, পুনর্গঠন চাই। আমরা অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে ভেঙে দিয়ে পুনর্গঠনের দাবি জানাচ্ছি।

বিএনপির দশ দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ২৯ মে বেলা ১১টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা; ৩০ মে ভোর ৬টায় দলের নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন; সকাল ১০টায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও কবর প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে মিলাদ মাহফিল; সকাল থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় ড্যাবের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প; ঢাকা মহানগরের প্রতিটি থানায় দুস্থদের মাঝে কাপড় ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ; বিভাগীয় শহরগুলোতে জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যোগে বইমেলা; ছাত্রদলের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়াউর রহমানের ওপর দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনী। মির্জা ফখরুল বলেন, শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে পোস্টার প্রকাশ এবং নেতা-কর্মীরা বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করবে। এছাড়া সংবাদপত্র ও অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশ করবে বিশেষ ক্রোড়পত্র। দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগেও আলোচনা সভা হবে বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে নিহত হন জিয়াউর রহমান। মির্জা ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে যৌথসভায় উপস্থিত ছিলেন-দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন, জন গোমেজ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, যুবদলের মোরতাজুল করিম বাদরু, নুরুল ইসলাম নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ছাত্রদলের আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।