নতুন প্রজন্ম বিশ্বকে টেক্কা দেবে: প্রধানমন্ত্রী

নতুন প্রজন্ম বিশ্বকে টেক্কা দেবে: প্রধানমন্ত্রী

এখন পরিবর্তনশীল যুগ। বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুত। আমরাও এগিয়ে যাচ্ছি। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের আরও এগিয়ে চলতে হবে। আমি জানি বাংলাদেশের মানুষ অনেক মেধাবী। তারা চাইলে সব পারে। আর আমাদের বর্তমান প্রজন্ম উচ্চশিক্ষা অর্জন করে বিশ্বকে টেক্কা দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সমৃদ্ধির দেশ গরবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, দেশের উন্নয়নে, দেশের শান্তিতে গবেষণার বিকল্প নেই। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে গবেষণা করে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে আমাদের তরুণদের। সবকিছুতেই সফলতা পেতে হলে অতীত জানার প্রয়োজন। ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন, তা সবারই জানা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এমন গৌরব অতীত আমাদের চলার পথের অনুপ্রেরণা। এসব জানতে হলে গবেষণা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বুধবার (১০ এপ্রিল) বেলা পৌনে ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ এবং বিশেষ গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিতে অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি শাসনে গবেষণার কিছুই ছিল না। কোনো উৎসাহ দেওয়া হতো না। আমি ক্ষমতায় এসে সে সুযোগ করে দিই। আমি প্রথমেই গবেষণার জন্য একটা বরাদ্দ দিলাম। ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছিলাম গবেষণার জন্য। এরপর ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখি গবেষণা এবং প্রযুক্তির জন্য। গবেষণায় গুরুত্ব দিয়েছি বলেই উৎকর্ষতা এসেছে দেশে। বিজ্ঞান ও তথপ্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ হচ্ছে আমাদের সোনার বাংলা। তাই গবেষণাটা উন্নয়নের মুখ্য বিষয়।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যাতে ব্যবহার হয়, সেক্ষেত্রে আমি গুরুত্ব দেয়েছি। এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। সকলের হাতে স্মার্টফোন। মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি। মহাকাশ জয় করেছি। আরও অনেক ক্ষেত্রে ডিজিটালে এগিয়ে নিচ্ছি দেশে। এছাড়া আমাদের মহাকাশেও গবেষণা প্রয়োজন। হয়তো আমরা মহাকাশেও যেতে পারবো। সবকিছু থেকে বের হবার একমাত্র পথই গবেষণা। এ লক্ষ্যেই আমরা এই বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ চালু করেছি।

এসময় প্রধানমন্ত্রী যারা গবেষণা করে অবদান রেখেছেন, যারা অনুদান পাচ্ছেন, তাদের অভিনন্দন জানান।

পরে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা যখন একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সবকিছু মোকাবিলা করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সেদিন আমার পুরো পরিবারকে আমি হারাই। এসব আমাদের নতুন প্রজন্মকে জানা দরকার। বোঝা দরকার জাতির পিতা দেশের জন্য কী কী করে গেছেন। আমাদের যে স্বাধীনতার চেতনা-গৌরব, সে বিষয়েও গবেষণার বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, ২৯ বছরের ক্ষমতায় তারা দেশেরে কোনো উন্নয়নের চিহ্ন রাখতে পারেনি। পারবেই বা কী করে। তারা তো স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। বরং বিরোধিতা করেছিল। তারা দেশের উন্নয়ন করবে কী করে। ক্ষমতায় এলেই নিজের পকেট ভরতে ব্যস্ত হয়ে যায় বিএনপি। আর আজ দেশ দ্রুত ক্রমবর্ধমান উন্নয়নশীল।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমাদের ভাষার অধিকার কেড়ে নিয়েছিলেন পাকিস্তানি শাসকরা। ১৯৪৮ থেকে জাতির পিতা আন্দোলন করে গেছেন বাঙালির ভাষার জন্য। ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তানিদের অত্যাচারের জবাব দিয়ে গেছেন। বাঙালির মুক্তির সনদ তিনি রচনা করেছিলেন ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ দিয়ে।

আজ ১০ এপ্রিল। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠন হয়। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়। পরে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামে এই মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।