নকল-ভেজাল ওষুধ বিক্রির বিরুদ্ধে হচ্ছে কঠোর শাস্তির আইন

নকল-ভেজাল ওষুধ বিক্রির বিরুদ্ধে হচ্ছে কঠোর শাস্তির আইন

জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তার স্বার্থে নকল-ভেজাল ওষুধ বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান ওষুধ আইনকে আরো যুগোপযোগী ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রেখে প্রস্তাবিত আইন অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন স্বান্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন।

রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে আওয়ামী লীগের সদস্য বেনজীর আহমেদের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী একথা জানান। এসময় অধিবেশনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। রোববারের প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নের চলমান প্রক্রিয়া গতিশীল রাখতে মানুষকে সুস্থ ও নেশামুক্ত রাখতে হবে। তামাক থেকে দূরে সরিয়ে আনতে হবে। এজন্য সবার সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন। নকল-ভেজাল ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে আসছে।

‘নকল ও ভেজাল ওষুধ উৎপাদন এবং বিক্রির দায়ে ৩৯ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ৪৪টি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে। জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে প্রায় ৩২ কোটি টাকা মূল্যের নকল-ভেজাল ওষুধ। বিদ্যমান ওষুধ আইনকে আরো যুগোপযোগী ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রেখে প্রস্তাবিত আইন অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন ।’

আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মমতা হেনা লাভলীর অপর প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তামাক সেবনের কারণে ১২ লাখ মানুষ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে ৩ লাখ ৮২ হাজার মানুষ অকাল পঙ্গুত্বের শিকার হয়। এসব রোগের মধ্যে ফুসফুস ক্যানসার ও ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদী রোগ- যা প্রধানত ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপানের কারণে হয়।

‘মুখ গহ্বরের ক্যানসার- যা প্রধাণত ধোঁয়াবিহীন বিভিন্ন তামাক সেবন, পানের সঙ্গে জর্দা বা সাদাপাতার ব্যবহার এবং মাড়িতে গুল ব্যবহারের কারণে হয়। ট্যোবাকো অ্যাটলাস ২০১৮ অনুযায়ী, তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রতিবছর এক লাখ ৬১ হাজারের অধিক লোক মৃত্যুবরণ করে। তামাক হচ্ছে এমন একটি ক্ষতিকর পণ্য, যা উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সেবন- প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতির ক্ষতি করে।’

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার আলোকে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে একটি খসড়া রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে। তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতির খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। ধোঁয়াবিহীন তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে একটি কৌশলপত্রও চূড়ান্ত করা হয়েছে।