নওগাঁর পরিবেশপ্রেমী কাজেম উদ্দীনের দেশী-বিদেশী গাছে ভরা বসতবাড়ি

নওগাঁর পরিবেশপ্রেমী কাজেম উদ্দীনের দেশী-বিদেশী গাছে ভরা বসতবাড়ি

নওগাঁ প্রতিনিধি : একেক মানুষ একেক রকম শখ নিয়েই পৃথিবীতে বসবাস করেন। বাংলাদেশের আনাচে-কানাচেও বিভিন্ন শখ বিচিত্রময় মানুষ বসবাস করছে। তবে নওগাঁর কাজেম উদ্দীন সরদার ও তার ৫ ছেলের শখ একটু ভিন্ন রকম। তারা বাবা -ছেলে ৬ জনই পরিবেশপ্রেমী। আর এ জন্যই তারা সবাই একই বাড়িতে (সংসারে) একসাথে যেমন মিলেমিশে বসবাস করছেন, সেই সাথে বাড়িটিও সাজিয়েছেন দেশী-বিদেশী মূল্যমান গাছ দিয়ে। দেখলে মনে হবে বাড়ির আঙ্গিনাটা যেন একটি বাগান। শুধু তাদের বাড়ি নয়, তাদের বাড়ির পাশের পাকা রাস্তার সাথে থাকা একটি পুকুরও সাজিয়েছেন দেশী-বিদেশী শতশত জাতের ফুলের গাছ দিয়ে। যেন এটি একটি সৌখিন পুকুর।

পুকুরের চারপাশে হাজার হাজার ফুলের গাছ আর সেই সাথেই হচ্ছে পুকুরে মাছ চাষ। দেশী-বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতির গাছে ভরা বাড়ি ও ফুলে ভরা পুকুর দেখার জন্য প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছে লোকজন। নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়নের কুন্দুনা গ্রামের বৃদ্ধ কাজেম উদ্দীন সরদার ও তার ৫ ছেলে আনারুল ইসলাম (৪৮), ইউনুস আলী (৪২), আতাউর রহমান (৩৮), আলতাব হোসেন (৩৬) এবং ইউসুফ আলীসহ (৩০) বাড়ির নারী ও শিশুরা সকলেই পরিবেশপ্রেমী হিসেবে এলাকার মানুষের কাছে ব্যাপক পরিচিত। পরিবারটির সকলেই পরিবেশপ্রেমী হওয়ায় একের পর এক সংগ্রহ করেছেন দেশী-বিদেশী বিভিন্ন জাতের বনসাই গাছ ও ফুলের গাছ। এসব গাছ সংগ্রহ করতে গুনতে হয়েছে তাদের হাজার হাজার টাকা। এছাড়া গাছের যতেœ প্রতিদিন বাড়ির নারী-পুরুষ ও শিশুদের দিতে হচ্ছে ব্যাপক শ্রম। তারপরও থেমে নেই তাদের আগ্রহ। তাদের বাড়ির আঙ্গিনায় রয়েছে বনশাই, চায়না বট, চায়না পাইকড়, খেজুর, চায়না কমলা, ক্যাক্টটাস, পাথর ক্যাকটার্স, ফনি সনসা, ছাতুন, দেশী বট বনশাই, শ্বেত চন্দন, থুজা, আর্কিড, ঝাউবেলী, পাইন ঝাউ, অ্যাডোলিয়াম ও ভাতপাতা, তেতুল বনসাই, বনসাই কৃষ্ণচূড়া, ভেক্টরিয়া, ছাতুন ও ঝাড় কামিনীসহ ২০ প্রজাতির ক্যাক্টটাস, ৫০ প্রজাতির বনসাই গাছ। বাড়ি ছাড়াও তাদের পুকুরটির চারিপাশে রয়েছে দেশী-বিদেশী জাতের হাজারো ফুল গাছ। উল্লেখযোগ্য ফুল গাছগুলো হলো, পপি, পিটুনীয়া, চন্দ্র মল্লিকা, কসমস, জেনিয়া, সেলফিয়া, পান বাটিয়াসহ প্রায় অর্ধশত প্রজাতির দেশি-বিদেশী হাজারো ফুলের গাছে লাখ লাখ ফুল ফুটেছে।

 এছাড়া পুকুরের মাঝখানে বসানো হয়েছে একটি পানির ফোয়ারা। তাছাড়াও পুকুরের মাঝে পানিতে সদ্য ফোটা লাল শাপলাও ভাসছে। এক কথায় পুকুরটি যেকেউ দেখলে তাকে সুন্দর করে সাজানো- গোছানো সৌখিন পুকুর হিসেবেই মেনে নিতে হবে। সরেজমিন নওগাঁ জেলা শহর থেকে ২৪ কিঃ মিঃ দূরে প্রত্যন্ত গ্রাম্যঞ্চলের ধনজইল-মাতাজীহাট পাকা সড়কের ধারের কুন্দনা গ্রামের পরিবেশপ্রেমী বৃদ্ধ কাজেম উদ্দীন সরদারের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল বাড়িটির আঙ্গিনাজুড়ে শোভা পাচ্ছে দেশী-বিদেশী জাতের প্রচুর পরিমাণ মূল্যমান গাছ। দেখে মনে হলো বাড়িতো নয়, যেন সাজানো একটি বাগান। যে কেউ দেখলেই তাদের মনে হবে বাড়ির আঙ্গিনাটা যেন একটি বাগানই। এরপরই সৌখিন পুকুরে গিয়ে দেখা গেল পুকুরটির চারি পাশে দেশী ও বিদেশী প্রায় অর্ধশতাধিক প্রজাতির হাজারো ফুল গাছে বাহারী রকমের শত শত ফুল ফুটেছে। এ সময় কথা হয় পরিবেশপ্রেমী ৫  ছেলের বাবা বৃদ্ধ কাজেম উদ্দীন সরদারের  সাথে।

 তিনি জানান আমার ৫ ছেলেসহ বাড়ির নারী ও শিশুরা সবাই পরিবেশপ্রেমী। কারণ সকলে মিলেই বাড়ির আঙ্গিনা ও পুকুর পাড়ে গাছগুলো রোপণ করাসহ প্রতিদিন গাছের পরিচর্যা করা হয়। তবে আমার ৫ ছেলের মধ্যে দুই ছেলে রাইগাঁ উচ্চ বিদ্যালয় ও ভালাইন উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি করে। এ কারণেই আমার বড় ছেলেরা ও পরিবারের মেয়েরাই গাছগুলোর যতœ নেয় সবসময়। পরিবারের ছোট ছেলে ও রাইগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইউছুফ জানান আমাদের বাড়িতে যে গাছ আছে, তার মধ্যে অনেক গাছই বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। পাকা রাস্তার ধারের সৌখিন এ পুকুরের সাথেই আমাদের ৫ ভাইয়ের মোট ২৫ বিঘা জমি রয়েছে। আগামীতে ২৫ বিঘা জমিতেই বড় আকারে দেশী ও বিদেশী জাতের ফুল গাছ রোপণ করাসহ জমিতে থাকা আরো দুটি পুকুরকেই সৌখিন পুকুর হিসেবে গড়ে তোলার ইচ্ছে রয়েছে আমাদের।