ধ্বংসের পথে দুপচাঁচিয়ার ঐতিহাসিক শিবমন্দির

ধ্বংসের পথে দুপচাঁচিয়ার ঐতিহাসিক শিবমন্দির

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার গোবিন্দপুরের দুই শতাধিক বছরের প্রাচীন ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি জাগ্রত শিব মন্দিরটি প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে আজ ধ্বংসের পথে। দুপচাঁচিয়া উপজেলার গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ শিব মন্দিরটি অবস্থিত। গত শনিবার সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই শতাব্দী আগে শিব মন্দিরটি স্থাপিত হয়। সেই সময় মন্দিরটির অবস্থান ছিল প্রায় ২৮ শতাংশ জায়গার উপর। বর্তমানে তা বেদখল হয়ে মন্দিরের ভিতে এসে ঠেকেছে।

 এ ছাড়াও মন্দিরের নামে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বিঘা জমি রয়েছে। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন তা ভোগ দখল করত। যা বর্তমানে স্থানীয় প্রভাবশালীমহল দখল করে রেখেছে। তবে স্থানীয় একটি সূত্রে জানায়, মন্দিরের যাবতীয় সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তিভুক্ত হয়েছে। তবে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় মধ্য ও নি¤œবিত্ত হওয়ায় তারা কোন কিছু করার সাহস পাচ্ছেন না। মন্দির চত্বরে আগে বিপুল উৎসব করে দুর্গা পূজাসহ বিভিন্ন উৎসব পালিত হতো। এখন তা হয় আর না। তবে এখনও প্রতি বছর মন্দিরের সামনে বড় আকারের লক্ষ্মীপূজা হয়ে থাকে। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত মন্দিরটি সংস্কারে কোন সাহায্য সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। উল্টো স্বাধীনতার পর ঢাকা ও মহস্থান জাদুঘর থেকে প্রতœতত্ত্ব বিভাগের লোক এসে এখান থেকে অনেক মূল্যবান মূর্তি নিয়ে গেছে। গত বছরের বৃষ্টিতে প্রাচীন শিব মন্দিরটির সামনের অংশ ধ্বসে পড়ে।

এ ব্যাপারে গতকাল শনিবার স্থানীয় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মজিবর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শিব মন্দিরটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ বিষয়ে পূর্ত বিভাগসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে অবগত করা হলেও কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি। গোবিন্দপুরের মূলরাস্তা ঘেঁষা বিদ্যালয়ের মাঠের অবস্থান হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিতে থাকে মন্দিরটি। যে কোন মুহূর্তে প্রাচীন শিব মন্দিরটি ভেঙ্গে পড়ে গোবিন্দপুরের রাস্তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্নসহ দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী পুরাকীর্তি জাগ্রত শিব মন্দিরটি ধ্বংসের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন মন্দিরটি দ্রুত সংস্কার করে তার ঐতিহ্য রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।