ধৈর্যধারণ করে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান

ধৈর্যধারণ করে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান

ধৈর্যধারণ করে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নিয়েছেন। এখন তাদের দাবি বাস্তবায়িত হচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের ধৈর্যধারণ করে ক্লাসে ফিরে যেতে বলেন মন্ত্রী।

শনিবার (০৪ আগস্ট) সিলেট তামাবিল সড়কের বটেশ্বর সেনানিবাস এলাকায় মেট্টোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় সমাবর্তনে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ আহ্বান জানান তিনি।

নাহিদ বলেন, দুই শিক্ষার্থীকে অন্যায় ও বেআইনিভাবে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক এবং দুঃখজনক। এরইমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। যদিও এটা কিছুই না। এসব অপরাধীদের এরইমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিচার করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রিয় শিক্ষার্থীদের হারিয়ে আমরা শিক্ষা পরিবারের মানুষ খুবই মর্মাহত। অবশ্য এ ব্যাপারে সরকার যে ব্যবস্থা নিয়েছে, তাতে আশা করবো শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরবে। দিনের পর দিন রাস্তা আটকিয়ে জনদুর্ভোগ বাড়ানোর কোনো মানে হয় না।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, এরইমধ্যে শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়িত হয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ কমে আসবে। আশা করি তারা ক্লাসে ফিরে যাবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে, সেজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

যানবাহন চালকদের দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার দাবি শিগগিরই বাস্তবায়িত হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এরইমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে স্পিডব্রেকার বসাতে বলা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও স্ব স্ব উদ্যোগে এ কাজ করার তাগিদ দেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, বাচ্চাদের রাস্তায় চলাচলে আরো সচেতনতা অবলম্বন করতে বলেন। সেই সঙ্গে নিরাপত্তার দাবি নিয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের অনানুষ্ঠানিক ধর্মঘট থেকে সরে আসার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কেননা তাদের সন্তানরাও স্কুলে পড়েন।
 
ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ উদ্দিন, সমাবর্তন বক্তার বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নান, ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী প্রমুখ।
 
অনুষ্ঠানে ৮ শিক্ষার্থীকে গোল্ড মেডেল দেওয়া হয়। পাশাপাশি এক হাজার ৮৭০ জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি অর্জনের সম্মাননা দেওয়া হয়।