ধুনটে জুতা পায়ে শহীদ মিনারে দুই শিক্ষক!

ধুনটে জুতা পায়ে শহীদ মিনারে দুই শিক্ষক!

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি কে ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক ও সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুতা পায়ে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। গতকাল শুক্রবার সকালে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করার সময় দুই শিক্ষক জুতা পায়ে শহীদ মিনারে ওঠেন।

জুতা পায়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবদনের ঘটনায় এলাকায় মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বেদিতে জুতা পায়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গণমাধ্যমকর্মীদের নজরে আসে। জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক জুতা পায়ে শহীদ বেদিতে উঠেন এবং ছবি তোলেন। বিদ্যালয়ের সভাপতি ও গোসাইবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান ও অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী খালি পায়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক বুলবুল ঘটনার সত্যতা শিকার করে বলেন, শহীদ মিনারে আমি শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি। এ সময় আমার মনে ছিল না যে আমার পায়ে জুতা আছে। এ ঘটনাটির জন্য আমি খুব লজ্জিত, আমাকে সবাই ক্ষমা করে দিবেন। এমন ঘটনা আর ঘটবে না। এ বিষয়ে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কামটির সভাপতি ও গোসাইবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান বলেন, দুই শিক্ষক অসাবধানতাবশত এই জঘন্যতম     

কাজটি করেছেন। ওই সময় আমি বিষয়টি লক্ষ্য করিনি। পরে ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রেজাউল হক মিন্টু বলেন, এটি দেশ ও জাতির জন্য একটি লজ্জার ব্যাপার। শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষার বিষয়ে শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা নেবে। এখন শিক্ষকেরাই যদি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে না পারেন, তা হলে তাদের কাছ থেকে কোমলমতি ছেলেমেয়েরা কী শিক্ষা পাবে? এ ধরনের ঘটনা শহীদদের প্রতি অশ্রদ্ধার শামিল। ধুনট উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিয়া সুলতানা বলেন, এমন ঘটনার জন্য আমরা লজ্জিত। ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হবে।