ধুনটে ইউপি সদস্যসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে শ্রমিক হত্যা মামলা

ধুনটে ইউপি সদস্যসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে শ্রমিক হত্যা মামলা

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার ধুনট উপজেলায় চাপড়া বিলের ধান ক্ষেত থেকে আবুল কালাম ওরফে হেমায়েত উদ্দিন (৪২) নামের নির্মাণ শ্রমিকের লাশ উদ্ধারের একদিন পর হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। নিহতের বড় ভাই মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে উপজেলার চিকাশি ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য লিটন মন্ডলসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী সদরের ভুরিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে আবুল কালাম ওরফে হেমায়েত উদ্দিন ঢাকায় নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতো। একই এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেছে ধুনট উপজেলার ঝিনাই গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে লাভলি খাতুন। প্রায় ১৪ বছর আগে ঢাকায় বিয়ে হয় আব্দুল কালাম ও লাভলি খাতুনের। বিয়ের পর স্বামীকে নিয়ে ঝিনাই গ্রামে বাবার বাড়িতে সংসার গড়েন লাভলি খাতুন। তাদের দাম্পত্য জীবনে ২ কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। এ অবস্থায় প্রায় ৪ বছর আগে লাভলি খাতুন জীবিকার তাগিদে স্বামী ও সন্তান বাবার বাড়িতে রেখে বিদেশে (ওমান) অবস্থান করেন। এদিকে ১মার্চ সকালের দিকে ঝিনাই গ্রামে শ্বশুর বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দুরে চাপড়া বিলে ধান ক্ষেতের ভেতর আবুল কালামের লাশ দেখেন স্থানীয়রা।পরে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য    

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে শুক্রবার দিবাগত রাতে ধুনট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় নিহতের মামা শ্বশুর ইউপি সদস্য লিটন মন্ডল, ভায়রা ইউসুব ও ওয়াজেদ আলীসহ ১০ জনকে আসামী করা হয়েছে।মামলার বাদী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমার ভাই এর শ্বশুরের ছেলে সন্তান না থাকায় তার মেয়ে লাভলি খাতুনের নামে সমস্ত সম্পত্তি রেজিষ্ট্রী করে দেন। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেন আমার ভাইয়ের মামা শ্বশুর, ভায়রাসহ নিকট আত্মীয় স্বজনেরা। ওই সম্পত্তি থেকে আমার ভাইকে বঞ্চিত করা লক্ষ্যে আসামীরা পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধুনট থানার এসআই আইয়ুব আলী বলেন, এ হত্যাকান্ডের কোন ক্লু নেই। এ কারেণ ময়না তদন্ত প্রতিবেদন ও অনুসন্ধান ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।