ধর্ষণের শিকার শিশু

ধর্ষণের শিকার শিশু

শিশু নির্যাতন এবং নৃশংসভাবে হত্যাকান্ডের খবর পত্রপত্রিকার বেশিরভাগ জায়গা দখল করে রেখেছে। এসব ঘটনায় সচেতন দেশবাসী ও অভিভাবক মহল রীতিমতো উদ্বিগ্ন। স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, বাসে-লঞ্চে, পথে-ঘাটে, মাঠে কোথাও আজ যেন শিশুরা নিরাপদ নয়। গেল বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ছয়মাসে দেশে শিশু ধর্ষণ বেড়েছে ৪১ শতাংশ হারে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ৪৯৬টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ও বিচারহীনতা সংস্কৃতির কারণেই প্রতিনিয়ত বাড়ছে ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ৫৭১ জন, ২০১৭ সালে ৫৯০ জন ও ২০১৬ সালে ৪৪৬ জন। শিশু অধিকার ফোরাম এসব তথ্য জানিয়েছে। ধর্ষণ শুধু নির্যাতন নয়, তা যে বৃহত্তর সামাজিক অন্যায়ের একটা অংশ তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই ধর্ষণের ঘটনাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া এবং এর কঠোর প্রতিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোন কোন সদস্যের যদি দায়িত্ব পালনে উদাসীনতা, অবহেলা কিংবা কোন কোন ক্ষেত্রে যদি অনৈতিকতার অভিযোগ ওঠে তার প্রতিকারও নিশ্চিত করতে হবে। নগর থেকে গ্রাম পর্যন্ত কোথাও না কোথাও প্রায়ই ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। অনেক ঘটনাই থেকে যায় দৃষ্টিসীমার বাইরে। গণমাধ্যমে সব খবর আসে না। তারপরও যে চিত্র ফুটে উঠেছে। নিঃসন্দেহে চরম উদ্বেগজনক। সমাজে যখন আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে, মূল্যবোধের ক্ষয়িষ্ণুতা বৃদ্ধি পায়, তখন নানা নেতিবাচক দিক মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। সামগ্রিক পরিস্থিতি, আমলে নিয়ে শিশুর সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ধর্ষণের মতো ভয়ঙ্কর ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিশ্চিত হোক এমনটি কাম্য।