ধর্ষণের শিকার শিশু

ধর্ষণের শিকার শিশু

আশংকাজনকভাবে বাড়ছে শিশু ধর্ষণের ঘটনা। চলতি বছরের ছয় মাসে ৪৯৬ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। যা অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। সর্বনিম্ন আড়াই বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ৭ থেকে ১২ বছরের শিশুরাই ধর্ষণের শিকার হচ্ছে বেশি। গত জুলাই মাসেই কেবল গত ৭ দিনে ৪১ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। যার মধ্যে ৬ শিশুকে গণধর্ষণ, ৫ প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং তিনজন শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া ১০ শিশুকে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় উঠে আসা সংবাদের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম। ধারাবাহিকভাবে শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটতে থাকায় এবং এসব ঘটনার নৃশংসতায় নাগরিক হিসেবে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। এসব ঘটনা আমাদের সমাজে শিশুদের অসহায় অবস্থায় ফেলে দিয়েছে।

শিশুদের নিয়ে কাজ করা বিজ্ঞজনরা বলছেন, অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া, দুর্বল চার্জশিট, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং সর্বোপরি সামাজিক মূল্যবোধের ব্যাপক মাত্রায় অবক্ষয়ের কারণেই সমাজে শিশু ধর্ষণের ঘটনা আশংকাজনকভাবে বাড়ছে, শিশুদের জীবনে যদি ভয়ংকর পরিস্থিতি নেমে আসে, ধর্ষণের মতো ঘটনা একের পর এক ঘটতে থাকে, তবে তার ভয়াবহতা কী রূপ, বলার অপেক্ষা রাখে না। যেসব খবর পত্র-পত্রিকায় উঠে আসছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আর মনে রাখা দরকার, এই পরিস্থিতি রোধ করতে না পারলে শুধু বর্তমান সময়ই নয়, আগামী দিনেই হয়ে উঠবে আরও ভয়ঙ্কর এমন আশংকা অমূলক নয়। অনেক ঘটনাই থেকে যায় দৃষ্টিসীমার বাইরে। গণমাধ্যমে সব খবর আসে না। তারপরও যে চিত্র ফুটে উঠেছে, নি:সন্দেহে চরম উদ্বেগজনক। সমাজে যখন আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে, মূল্যবোধের ক্ষয়িষ্ণুতা বৃদ্ধি পায়, তখন নানা নেতিবাচক দিক নাড়াচাড়া দিয়ে ওঠে। সব পক্ষকে একত্র হয়ে এই অপরাধ প্রবণতার কারণ চিহ্নিত এবং সে মোতাবেক এই ব্যাধি নিরাময়ের উপায় খুঁজে বের করতে হবে।