ধর্ষণ-শিশু হত্যা

ধর্ষণ-শিশু হত্যা

ধর্ষণের মতো বিকৃত সামাজিক ব্যাধির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না কোমলমতি নিষ্পাপ শিশুরা। ঘরে-বাইরে সর্বত্র অনিরাপদ হয়ে উঠেছে তাদর জীবন। শিশু ধর্ষণ নির্যাতন হত্যার যে চিত্র আমরা বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও জরিপে দেখতে পাচ্ছি সেটি সত্যি আঁতকে ওঠার মতো। ধর্ষণ এবং হত্যা যেন আমাদের সমাজে মহামারীর মতোই জেঁকে বসেছে। শনিবার রাজধানীর ওয়ারীতে আটতলা একটি ভবনে সায়মা নামে সাত বছরের ফুলের মতো নিষ্পাপ একটি শিশুকে ধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। অপর দিকে পটুয়াখালীর গলাচিপা এবং গৌরনদীতে দুই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ধর্ষণ এবং বাগবাড়ীতে এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। সাড়ে তিন বছরের শিশু থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, গৃহবধূ, বৃদ্ধা কেউই বাদ যাচ্ছে না ধর্ষণের শিকার হওয়া থেকে? এ জাতীয় অসংখ্য কর্মকান্ডের পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, নারী-শিশুরা কোথাও নিরাপদে নেই। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধী ধরা পড়ে আবার থেকে যায় অধরাও। এতে করে হয় না বিচার।

 এভাবেই চলছে। কিন্তু যা করলে অপরাধ বন্ধ হবে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। অস্বীকারের সুযোগ নেই যে, নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার বেশির ভাগ মানুষই অসহায় ও দরিদ্র বিধায় অপরাধীরা ক্ষমতাবান হলে মামলার গতি মুখ থুবড়ে পড়ে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, যথাসময়ে ন্যায় বিচার নিশ্চিত না হওয়ায় দুর্বৃত্তরা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এ সব দ্রুত আমলে নিয়ে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক। আর্থিক দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে দেশ, এই দুর্নীতি হয়তো মানুষকে উৎসাহী করছে চারিত্রিক অন্যান্য স্খলনেও। এ সমাজ কলুষমুক্ত করতে হলে সব অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনতে হবে। তার রাজনৈতিক পরিচয় দেখলে হবে না। কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে পঙ্কিলতার আবর্তে ঘুরপাক খাবে সমাজ।