ধর্ষণ মামলায় পুলিশকে সহযোগিতা করতে গিয়ে হামলার শিকার যুবক

ধর্ষণ মামলায় পুলিশকে সহযোগিতা করতে গিয়ে হামলার শিকার যুবক

পুলিশের সামনেই ধর্ষণ মামলার সাক্ষীকে
পাবনায় ধর্ষণ মামলায় পুলিশকে সহযোগিতা করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন আব্দুল আলীম (৩৬) নামের এক যুবক। তিনি পাবনা পৌর শহরের নুরপুর মহল্লার ডা. আয়নুল হকের ছেলে। হামলা শিকার ওই যুবকের অভিযোগ, পুলিশ ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তার ওপর হামলা হলেও তাকে রক্ষায় কেউ এগিয়ে আসেননি।
এদিকে, ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, আশররাফ হোসেন (৪৫) ও তোফাজ্জল হোসেন (৪২)। তাদের দুজনের বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২০ ডিসেম্বর সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারী ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় ২২ ডিসেম্বর সদর থানায় মালিগাছা ইউপি চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলামসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ওই নারীর পরিবার। এরই প্রেক্ষিতে গত ১৭ জানুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যায় এই মামলার তদন্ত করতে গাছপাড়া বাজারে যান সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম ও এক কনস্টেবল।
পরে সেখানে পুলিশ কর্মকর্তা সাক্ষ্য নেয়ার জন্য আব্দুল আলীমকে মুঠোফোনে ডেকে নেন এবং গাছপাড়া বাজারের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে আলীমসহ কয়েকজনের সঙ্গে মামলার বিষয়ে কথা বলছিলেন ওসি (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম। এ সময় ধর্ষণ মামলার আসামী ইউপি চেয়ারম্যানের পক্ষে তার ছোট ভাই আরিফ, হেলাল, আশরাফসহ তাদের সহযোগীরা অতর্কিত আলীমের ওপর হামলা চালায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এদিকে, হামলার ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। স্থানীয়রা আহত আলীমকে উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আহত আলীমের স্ত্রী রুমা খাতুন জানান, পুলিশ অফিসার আমার স্বামীকে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য মোবাইলে ডেকে নিয়ে যান। কিন্তু তার উপস্থিতিতে হামলা হলো অথচ তিনি (পুলিশ কর্মকর্তা) কোনও ভূমিকা নিলেন না।
এ বিষয়ে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম জানান, মামলার সাক্ষীর বিষয়ে কথা শেষ করে চলে আসার পর আলীমের ওপর হামলা হয়। কিছু দূরে যাওয়ার পর লোকজনের দৌড়াদৌড়ি দেখে তাৎক্ষনিক বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাই এবং আশপাশের মোবাইল টিমকে খবর দেই। পরে আহত আলীমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় স্থানীয় লোকজন।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, ঘটনার পর অভিযানে নেমেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। আহত যুবকের স্ত্রী রুমা খাতুন বাদী হয়ে দশজনকে আসামি করে সোমবার রাতে মামলা দায়ের করেছেন। এরপর অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।