ধর্ম যার যার উৎসব সবার

ধর্ম  যার যার  উৎসব সবার

রাগেবুল আহসান রিপু : পহেলা বৈশাখ ও বৈশাখী উৎসব নিয়ে একটি বিশেষ মহল জঘন্য প্রচারণায় লিপ্ত রয়েছে। তাদের মূল বক্তব্য হচ্ছে ‘‘এসব হিন্দুয়ানী কর্মকান্ড, ইসলাম কোনভাবেই তা অনুমোদন করে না’’। আমরা দেখেছি উৎসবে বোমা মেরে অনেক নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। ১ বৈশাখের উৎসবের সঙ্গে যারা ধর্মকে জড়াচ্ছে তারা সম্পূর্ণ ভুল ও অসৎ উদ্দেশ্যে তা করছে। মূলত ঃ ১ বৈশাখের সঙ্গে ধর্মের কোন বিরোধ নেই। এটি একটি অসাম্প্রদায়িক ও সর্বজনিন উৎসব। সম্রাট আকবর প্রবর্তিত বাংলা নববর্ষ ১ বৈশাখ শুরুতে তেমন কোন উৎসবের আমেজ ছিল না। বাঙালি ধীরে ধীরে বিশেষ করে ষাটের দশকে যখন তাদের মধ্যে বাঙালি জাতীয়তাবোধ জাগ্রত হলো তখন থেকে তারা এটাকে উৎসবে পরিণত করার চেষ্টা করে। আমরা আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির ভান্ডারে যে সমস্ত সংস্কৃতিক উপাদান যেমন-লালন, হাছনরাজা, পল্লীগীতি, লোকগীতি, ভাটিয়ালি, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও অন্যান্য সব নিয়ে যুক্ত হতে থাকি। এরই ধারাবাহিকতায় বাঙালি সংস্কৃতির সকল উৎসবই সর্বজনীন তথা অসাম্প্রদায়িক উৎসবে পরিণত হয়েছে। অসাম্প্রদায়িক সকল উৎসবই বৃহত্তম উৎসবে পরিণত হয়। কারণ এখানে সকল ধর্মের, সকল বর্ণের লোকেরা আসতে পারে। যার যার ধর্ম উৎসব তার তার নিজের কাছে। আমাদের ঈদ আছে, পূজা আছে, খ্রিস্টমাস আছে, বৌদ্ধ পূর্ণিমা আছে। যে যে সম্প্রদায়ের সে যে সম্প্রদায়ের ধর্ম পালন করে। সব সম্প্রদায় মিলে একটি জাতি। বাঙালি জাতি তার জন্য বাংলা নববর্ষ। এটাই আমাদের সমগ্র জাতির জন্য এক উৎসব। এই উৎসবের সঙ্গে ধর্মকে মিলানোর কোন সুযোগ নেই। কোন দেশে তা মিলায়ও না। যখন ইরানীরা নওরোজ পালন করে তখন তার সঙ্গে ইসলামকে মেলায় না। বৌদ্ধরা বৈসাবী পালন করে কিন্তু তার সঙ্গে তারা বৌদ্ধ ধর্মকে মেলায় না। যখন ইংরেজরা নিউ ইয়ার পালন করে তখন কিন্তু তারা তার সঙ্গে খ্রিস্ট ধর্মকে মেলায় না। সেখানে সকল ধর্মের, সকল বর্ণের মানুষের একটা উৎসব। ইরানে অনেক শিয়া, সুন্নি ও কুর্দি আছে। তাদের আলাদা উৎসব আছে কিন্তু নওরোজের দিন এক সঙ্গে তারা উৎসব পালন করে। আজকে আমাদের দেশে কিছু লোক অসৎ উদ্দেশ্যে আমাদের বাংলা নববর্ষের ওপর আঘাত করছে। নববর্ষের ওপর আঘাত করা মানে আমাদের বাঙালি জাতীয়তার উপর আঘাত করা। বাঙালি জাতীয়তার উপর আঘাত করলে আমাদের স্বাধীনতা দুর্বল হয়ে যাবে। আমাদের স্বাধীনতার চেতনাও দুর্বল হয়ে যাবে। তখন এক সময় আমাদের রাষ্ট্রও দুর্বল হয়ে পড়বে। এই উদ্দেশ্যে থেকে তারা মানুষকে ধর্মের নামে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্ত করছে। এখানে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই, কারণ আমরা জানি ধর্ম যার যার উৎসব সবার। পহেলা বৈশাখ আমাদের প্রাণের উৎসব। এই উপমহাদেশে সবচাইতে বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব। নববর্ষের প্রথম প্রভাতে আমাদের সকলের প্রার্থনা আমরা যেন থাকি আনন্দলোকে মঙ্গল আলোকে। শুভ নববর্ষ।
লেখক ঃ উন্নয়ন ও রাজনৈতিক কর্মি
০১৭১২-১৯৬৬৫৫