দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি

দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন আবদুল হামিদ

দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন আবদুল হামিদ

দ্বিতীয় মেয়াদে দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি হলেন মো: আবদুল হামিদ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা একজন হওয়ায় বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। মো: আবদুল হামিদ আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯ এপ্রিল শপথ নিতে পারেন।

বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর নির্বাচন ভবনে প্রেসব্রিফিং করে এ ঘোষণা দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা।

এর আগে, ২০১৩ সালের ২৩ এপ্রিল আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। সে সময়ও তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

গত সোমবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আবদুল হামিদের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আবদুল হামিদের পক্ষে তিনটি মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়। প্রথমটিতে প্রস্তাবক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সমর্থক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। দ্বিতীয়টিতে প্রস্তাবক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং সমর্থক আ স ম ফিরোজ। তৃতীয়টির প্রস্তাবক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং সমর্থক এমপি আতিউর রহমান আতিক।

ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদের সঙ্গে বঙ্গভবনে দেখা করতে যাবেন কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের কমিশন দল।

জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় রাষ্ট্রপ্রধানের পদে ৭৪ বছর বয়সী আবদুল হামিদের দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হলেন। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো: আবদুল হামিদ।


গত ৩১ জানুয়ারি গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভায় আবদুল হামিদকে আবারও রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। শুক্রবার আবদুল হামিদের পক্ষে জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন এবং রবিবার রাষ্ট্রপতি ওই মনোনয়নপত্রে সই করেন।

স্বাধীনতার পর ১৯ মেয়াদে এখন পর্যন্ত ১৬ জন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই হিসেবে আবদুল হামিদ এ পদে সপ্তদশ ব্যক্তি। বাংলাদেশের আইনে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকতে পারেন।

১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় তাকে ২০১৩ সালে স্বাধীনতা দিবস পদকে ভূষিত করা হয়।

উল্লেখ্য, আব্দুল হামিদ এ্যাডভোকেট ১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মরহুম হাজী মো: তায়েব উদ্দিন ও মাতার নাম মরহুমা তমিজা খাতুন। তিনি একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি। ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আব্দুল হামিদ ৭ম জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন এবং ১৩ জুলাই ১৯৯৬ থেকে ১০ জুলাই ২০০১ পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি স্পিকার নির্বাচিত হন এবং ১১ জুলাই ২০০১ থেকে ২৮ অক্টোবর ২০০১ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ৮ম জাতীয় সংসদে তিনি ২০০১ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২৭ অক্টোবর ২০০৬ সাল পর্য়ন্ত বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি সর্বসম্মতিক্রমে দ্বিতীয়বারের মত স্পিকার নির্বাচিত হন ২৪ এপ্রিল, ২০১৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের অসুস্থতাজনিত কারণে তার মৃত্যুর ৬ দিন পূর্বেই ১৪ মার্চ, ২০১৩ তারিখে তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে আসীন ছিলেন।