দ্বিতীয় টেস্টেই প্রথম জয় আফগানদের

দ্বিতীয় টেস্টেই প্রথম জয় আফগানদের

টেস্ট ক্রিকেটে নাম লেখানোর পর প্রথম জয় পেতে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হলো না আফগানিস্তান ক্রিকেট দলকে। গতবছরের জুনে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকের নয় মাসের মাথায় নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়ে গেল আসগর আফগানের দল।

ভারতের দেহরাদুনে টেস্ট ক্রিকেটের আরেক নবীন দল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৭ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে তারা। এহসানউল্লাহ জানাত এবং রহমত শাহর ফিফটিতে আইরিশদের ছুঁড়ে দেয়া ১৪৭ রানের লক্ষ্যটি পেরুতে বেগ পেতে হয়নি আফগানদের।

অভিজাত এ ফরম্যাটের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই জয় পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া (১৮৭৭ সালে)। এছাড়া ইংল্যান্ড (১৮৭৭) ও পাকিস্তান (১৯৫২) জয়ের মুখ দেখে দ্বিতীয় ম্যাচে। প্রায় ৬৭ বছর পর নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই প্রথম জয়ের দেখা পেয়ে গেল আফগানিস্তান। টেস্ট ক্রিকেটের বাকি ৯ দলেরই লেগেছে দুইয়ের বেশি ম্যাচ।

এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং পাকিস্তান ব্যতীত আর কোনো দলই নিজেদের অভিষেকের এক বছরের মধ্যেই প্রথম টেস্ট জেতার কৃতিত্ব দেখাতে পারেনি। এ তালিকায় চতুর্থ দল হিসেবে নাম লেখালো আফগানিস্তান।

নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪২ রানের লিডে চাপা পড়ে ব্যাট করতে নেমেছিল আইরিশরা। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৭২ রানে অলআউট হলেও, দ্বিতীয় ইনিংসে তারা দাঁড় করায় ২৮৮ রানের সংগ্রহ। ফলে আফগানিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ১৪৭ রানের।

ম্যাচের দ্বিতীয় দিন শেষেই সমীকরণ অনেকটা আফগানদের পক্ষে চলে এসেছিল। যা তৃতীয় দিন পুরোপুরি নিয়ে আসেন রশিদ খান। আফগানিস্তানের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট নিয়ে টার্গেটটা ১৪৭ রানের বেশি যেতে দেননি ডানহাতি এ লেগস্পিনার।

আইরিশদের পক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে অ্যান্ডি ব্যালবার্নি ৮২ এবং কেভিন ও'ব্রায়েন করেন ৫৬ রান। এছাড়া জেমস ম্যাককলম ৩৯ এবং জেমস ক্যামেরন ডাউ ৩৫ রান করে অপরাজিত থাকেন।

তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে ১৪৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শাহজাদের উইকেট হারিয়েছে আফগানরা। তবে চতুর্থ দিন সকালে এহসানউল্লাহ জানাত এবং রহমত শাহ শতরানের জুটি গড়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

রহমত শাহ ৭৬ রান করে আউট হলেও, এহসানউল্লাহ অপরাজিত থাকেন ৬৫ রান করে। পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে মুখোমুখি প্রথম বলেই ৪ মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন হাশমতউল্লাহ শহিদি।

প্রথম জয়ের জন্য যে দলের যত ম্যাচ লেগেছে

অস্ট্রেলিয়া - ১ ম্যাচ
ইংল্যান্ড - ২ ম্যাচ
পাকিস্তান - ২ ম্যাচ
আফগানিস্তান - ২ ম্যাচ
ওয়েস্ট ইন্ডিজ - ৬ ম্যাচ
জিম্বাবুয়ে - ১১ ম্যাচ
দক্ষিণ আফ্রিকা - ১২ ম্যাচ
শ্রীলঙ্কা - ১৪ ম্যাচ
ভারত - ২৫ ম্যাচ
বাংলাদেশ - ৩৫ ম্যাচ
নিউজিল্যান্ড - ৪৫ ম্যাচ