ইউএস-বাংলা দুর্ঘটনা:

দেশে ফিরে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি শাহরিন

দেশে ফিরে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি শাহরিন

কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় আহত শাহরিন আহমেদকে দেশে নিয়ে আসার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টা  ৪৮ মিনিটে কাঠমান্ডু থেকে ফেরেন শাহরিন। তার দুই ভাইও তার সঙ্গে ছিলেন।

২৯ বছর বয়সী এই নারীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বার্ন ইউনিটের একটি দল আগে থেকেই সেখানে অপেক্ষা করছিলেন।

বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন পার্থ শংকর পাল বিমানবন্দরে বলেন, “আমরা শুনেছি রোগীর প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে। পায়েও আঘাত আছে। তার জন্য শতভাগ প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।”

সোমবার কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ৭১ আরোহীর মধ্যে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে চার ক্রুসহ ২৬ জন ছিলেন বাংলাদেশি।

কাঠমান্ডুর হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া বাকি দশ বাংলাদেশির মধ্যে স্কুল শিক্ষক শাহরিনই প্রথম দেশে ফিরলেন। তিনি কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজে ভর্তি ছিলেন।

একটি টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, হাসপাতাল থেকে শাহরিনের বিদায়ের সময় চিকিৎসক ও নার্সরা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। নেপালের ঐতিহ্য অনুযায়ী তাকে উত্তরীয় পরিয়ে ফুল উপহার দেওয়া হয়।

কাঠমান্ডু মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহরিন নেপালের হিমালয়ান টাইমসকে বলেছিলেন, এক বন্ধুর সঙ্গে তিনি কাঠমান্ডু ও পোখরা যাচ্ছিলেন বেড়াতে। অবতরণের আগে আগে তাদের বিমান এক দিকে কাত হয়ে গেলে সবাই চিৎকার শুরু করে। উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার পর আগুন ধরে যায়।

ওই পরিস্থিতির মধ্যে শাহরিনের গায়েও আগুন লাগে। বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি পড়ে যান। তবে কেউ একজন তাকে টেনে বের করে আনে।

কাঠমান্ডুর ওম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি রিজওয়ানুল হককে বুধবার নেপাল থেকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে গেছেন তার বাবা মোজাম্মেল হক। কাঠমান্ডু মেডিকেলে থাকা মেহেদী হাসান, সাঈদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা এবং আলমুন নাহার অ্যানিও চিকিৎসকের ছাড়পত্র পেয়েছেন।

তাদেরও শিগগিরই দেশে পাঠানো হবে বলে কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।